ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের মনোনয়ন পাওয়া ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে নিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। শুক্রবার (১ মে) দেওয়া ওই পোস্টে তিনি সাদিক কায়েমের রাজনৈতিক অবস্থান, ডাকসুর ভূমিকা এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন।
কাদেরের প্রশ্ন ও সমালোচনা
পোস্টের শুরুতে আব্দুল কাদের লেখেন, ‘সাদিক ভাইকে অভিনন্দন এবং শুভকামনা!’ তবে তিনি বলেন, ডাকসুর কার্যক্রম পরিচালনায় একটি ‘মডেল’ স্থাপনের কারণে অনেকেই মনে করছেন, সাদিক কায়েম যেখানেই নির্বাচন করবেন সেখানেই ভূমিধস বিজয় পাবেন। কাদের আরও লেখেন, ‘তার জুলাইয়ের আগের এবং পরের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানান বিতর্ক আছে কিন্তু জুলাইয়ে যতটুকু ভূমিকা আছে, সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নাই।’
তবে একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ডাকসু নির্বাচনের সময় নিজেদের ‘অ-লেজুড়বৃত্তিক’ সংগঠন হিসেবে উপস্থাপন করলেও পরবর্তীতে জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ায় শিক্ষার্থীদের একাংশ হতাশ হয়েছে। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘তারা লেজুড়বৃত্তিক সংগঠন না, বাকি সবাই লেজুড়বৃত্তি করবে আর মাদার পার্টির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে— এমন প্রচার শিক্ষার্থীরা আমলে নিয়েছিল।’ কিন্তু পরে দেখা যায়, ‘ভিপি সাহেব হেলিকপ্টারে উড়ে জামাতের প্রোগ্রাম করতেছেন, দিনরাত নির্বাচনি জনসভা করে বেড়াচ্ছেন।’ এতে কিছু শিক্ষার্থী বিস্মিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন আব্দুল কাদের। তার ভাষায়, ‘আয়হায় কইলো, লেজুড়বৃত্তি নাকি করবে না; তাহলে এখন এগুলা কি করতেছে!’
মেয়র নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে
সাদিক কায়েমের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও প্রশ্ন তুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কাদেরের মতে, ডাকসুর মেয়াদ শেষ না হলেও ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি করবে। তিনি লেখেন, ‘ভিপি’র কাজ শুধু সারাদেশে হেলিকপ্টার দিয়ে ঘুরে বেড়ানো আর মাঝেমধ্যে সময় পেলে ক্যাম্পাসে এসে ফ্রিজ-এসি উদ্বোধন করা কিনা, সেটা নিয়ে হয়তো বিস্তর আলাপ হবে।’
একইসঙ্গে ডাকসু ভিপি হিসেবে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি করতে সাদিক কায়েম ব্যর্থ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে একটা পলিটিকাল সেটেলমেন্ট হাজির করা যে ভিপি হিসেবে তার অন্যতম দায়িত্ব ছিল এবং সেক্ষেত্রে তিনি যে পুরাপুরি ব্যর্থ হয়েছেন, সেই বিষয়ে কারোরই দ্বিমত থাকার কথা না।’
শেষে শুভকামনা
তবে সমালোচনার পাশাপাশি শেষাংশে সাদিক কায়েমের জন্য শুভকামনাও জানান সাবেক এই সমন্বয়ক। তিনি লেখেন, ‘ডাকসুর অভিজ্ঞতার পরে ঢাকা দক্ষিণের মানুষজন তার উপর আবারও আস্থা রাখবে কিনা, জানি না। তারপরও জুলাইয়ের সালমান বর্তমান সাদিক কায়েমের জন্য শুভকামনা।’



