দেশের আইনজীবীদের শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৩টি পদে জয় পেয়েছে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল (নীল প্যানেল)। অপর একটি পদে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের (সবুজ প্যানেল) প্রার্থী।
সভাপতি ও সম্পাদক পদে ফলাফল
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, নীল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ২ হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের আবদুল বাতেন পেয়েছেন ৭৮৮ ভোট। সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের মোহাম্মদ আলী ২ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এই পদে সবুজ প্যানেলের এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার পেয়েছেন ৭৮৬ ভোট।
নির্বাচন প্রক্রিয়া
গত ২ এপ্রিল এক নোটিশে সমিতির দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের (২০২৬-২৭) তারিখ ঘোষণা করা হয়। ১৩ মে (বুধবার) ও ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে মাঝখানে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। ভোটগ্রহণ শেষে রাত দশটার দিকে গণনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ফলাফল ঘোষণা করেন।
অন্যান্য পদে বিজয়ী
এক বছর মেয়াদে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পদগুলো হলো একজন সভাপতি, দুজন সহ-সভাপতি, একজন সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ, দুজন সহসম্পাদক ও সাতজন সদস্য। নীল প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদে মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান নির্বাচিত হয়েছেন। কোষাধ্যক্ষ পদে নীল প্যানেলের মো. জিয়াউর রহমান জয়ী হয়েছেন। সহ-সম্পাদক পদে মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল বিজয়ী হয়েছেন।
সদস্য পদে ফলাফল
সদস্য সাতটি পদের মধ্যে ছয়টি পেয়েছে নীল প্যানেলের প্রার্থীরা। তাঁরা হলেন এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন, ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী, মো. কবির হোসেন, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া ও মো. টিপু সুলতান। অপর একটি সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন সবুজ প্যানেলের আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
ভোটার উপস্থিতি ও প্যানেল
এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ১১ হাজার ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৪৮ জন ভোট দেন। সমিতির এই নির্বাচনকে নির্দলীয় বলা হলেও বাস্তবে রাজনৈতিক দলের সমর্থক আইনজীবীদের মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে প্যানেলভিত্তিক নির্বাচন হয়ে থাকে। আগের সময়ে বিএনপিপন্থী (নীল) ও আওয়ামী লীগপন্থী (সাদা) প্যানেলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো।
তবে ২৬ এপ্রিল সমিতির এক বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে সমিতির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাদা প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। এবার বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল, জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ন্যাশনাল ল ইয়ার্স অ্যালায়েন্স (লাল-সবুজ প্যানেল) অংশ নেয়। নীল ও সবুজ প্যানেল ১৪টি পদেই প্রার্থী দেয়, লাল-সবুজ প্যানেল ছয়টি পদে প্রার্থী দেয়। এ ছাড়া কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।



