প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইলের মামলায় ৪ গ্রেফতার
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইলে ৪ গ্রেফতার

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ কে এম শামছুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত শামস মলিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, অশ্লীল ও মানহানিকর তথ্য প্রচার এবং ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে করা মামলায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ জুলাই) তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় ও রিমান্ড

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মামুন লস্কর (৪৫), ওমর ফারুক রবিন (৩৮), জয়নাল আবেদীন মানিক (৩৬) ও হেলাল উদ্দিন (৩৯)। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। মামুন লস্কর ও ওমর ফারুক রবিনকে দুই দিনের, জয়নাল আবেদীন মানিককে চার দিনের এবং হেলাল উদ্দিনকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

গ্রেফতারি অভিযান ও জব্দ

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে র‍্যাবের সহায়তায় ঢাকা থেকে দুজনকে, চট্টগ্রাম থেকে একজনকে এবং কুমিল্লা থেকে আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেটসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে, যেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার বিবরণ

এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সহকারী নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে গুলশান থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২৫ ও ২৭ ধারায় মামলা করেন। মামলায় চার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১ জুলাই বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ফেসবুক ও একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার স্ত্রী ইসরাত শামস মলির নামে আপত্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে দেয়। অভিযুক্তরা তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন মানহানিকর পোস্ট ও লিংক শেয়ার করেন, যা ভুক্তভোগীর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনদের কাছেও পাঠানো হয়। পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টায় এই কাজ করা হয়েছে।

তদন্তের অগ্রগতি

মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন গুলশান থানার এসআই সালমান ফারেসী। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত চার জনের মধ্যে তিন জন এজাহারনামীয় ও একজন তদন্তে প্রাপ্ত আসামি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন বলেন, “এই ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য আমাদের অভিযান চলছে।”