চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক ব্যবহারকারী ৯০ কোটিতে, অর্থের বিনিময়ে ব্যবহারকারী ৫ কোটি
চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক ব্যবহারকারী ৯০ কোটিতে

চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক ব্যবহারকারী ৯০ কোটিতে, শতকোটি মাইলফলকের দিকে এগিয়ে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে ৯০ কোটিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। এই অগ্রগতির ফলে চ্যাটজিপিটি শতকোটি সাপ্তাহিক ব্যবহারকারীর মাইলফলকের আরও কাছাকাছি চলে এসেছে। বিনা মূল্যে ব্যবহারকারীর পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওপেনএআইয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ অর্থের বিনিময়ে নিয়মিত চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন, যা সেবাটির বাণিজ্যিক সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে।

নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়ার গতি বেড়েছে

এক ব্লগ বার্তায় ওপেনএআই জানিয়েছে, বছরের শুরু থেকেই নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়ার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই দুই মাস প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায়। শেখা, লেখা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বিভিন্ন পেশাগত ও সৃজনশীল কাজে ব্যবহারকারীরা ক্রমেই বেশি হারে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছেন। ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেবার মানেও উন্নতি এসেছে। প্রতিক্রিয়া দেওয়ার গতি বেড়েছে, নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে এবং সামগ্রিক কার্যকারিতা আরও স্থিতিশীল হয়েছে।

চার মাসে ১০ কোটি ব্যবহারকারী বৃদ্ধি

গত বছরের অক্টোবরে চ্যাটজিপিটির নিয়মিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৮০ কোটি। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে চ্যাটজিপিটিতে আরও ১০ কোটি ব্যবহারকারী যুক্ত হয়েছে। স্বল্প সময়ে এমন প্রবৃদ্ধি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি সেবার বিস্তারের দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এটি এআই প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার একটি শক্তিশালী সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিনিয়োগ ও অর্থায়নের বিশাল পরিসর

ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটির উন্নয়নে ব্যক্তিগত বিনিয়োগের মাধ্যমে ১১ হাজার কোটি ডলার (১১০ বিলিয়ন ডলার) তহবিল সংগ্রহ করেছে, যা ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি অর্থায়নের পর্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই বিশাল তহবিলে পাঁচ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে অ্যামাজন। পাশাপাশি তিন হাজার কোটি ডলার করে বিনিয়োগ করেছে এনভিডিয়া ও সফট ব্যাংক। এই বিনিয়োগগুলো চ্যাটজিপিটির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

চ্যাটজিপিটির এই দ্রুত বৃদ্ধি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিশ্বব্যাপী প্রভাব ও সম্ভাবনার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে, যা প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।