দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য এআই গ্লাস উদ্ভাবন করে আন্তর্জাতিক হ্যাকাথনে যাচ্ছে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এআই গ্লাস নিয়ে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা হ্যাকাথনে

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য এআই গ্লাস উদ্ভাবন করে আন্তর্জাতিক হ্যাকাথনে যাচ্ছে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের চলাচল সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল উদ্যমী শিক্ষার্থী। উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ‘এআই ইন হেলথ কেয়ার হ্যাকাথন-২০২৬’-এ অংশ নেওয়ার জন্য মনোনীত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘ভিশন এআই’। আগামী ২৬ থেকে ২৮ মার্চ দেশটির রাজধানী তাসখন্দে অবস্থিত সেন্ট্রাল এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রদর্শন করবেন।

দলের সদস্য ও মেন্টর

জানা গেছে, চার সদস্যের দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। দলের অন্য সদস্যরা হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সিরাতুল ইসলাম এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মোল্লা ওমর হামজা ও রেহানুল বারী। দলটির মেন্টর হিসেবে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন ইইই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রাসেদুজ্জামান, যিনি শিক্ষার্থীদের এই উদ্ভাবনী প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

স্মার্ট গ্লাসের কার্যকারিতা

অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ‘ভিশন এআই’ দলের উদ্ভাবিত স্মার্ট গ্লাসটিতে ক্যামেরা ও বিভিন্ন সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। এটি আশপাশের বস্তু ও প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক অডিও নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করবে। সামনে কোনো বাধা আছে কি না, কোন দিকটি নিরাপদ—এসব তথ্য সরাসরি জানিয়ে দেবে ডিভাইসটি। ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অন্যের সহায়তা ছাড়াই স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবেন এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

টিম লিডার মেহেদী হাসান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নয়; এমন একটি কার্যকর এআই সমাধান তৈরি করা, যা মানুষের জীবনে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি কেবল প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, বরং সমাজের একটি বড় অংশের জন্য সহায়ক প্রযুক্তি তৈরির প্রয়াস।” এই উদ্যোগটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ছাড়াও আজারবাইজান, রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কাজাখস্তান, তুরস্ক, চীন, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন। এতে বৈশ্বিক পরিসরে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন দলের সদস্যরা। এই হ্যাকাথনটি স্বাস্থ্যসেবা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে আরও এগিয়ে নেওয়ার একটি মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।