নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জাতীয় নীতিমালা তৈরি করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু সেই নীতিমালা নিয়ে এখন বিতর্কে পরিণত হয়েছে। কারণ, এআই নিয়ে তৈরি করা ওই নীতিমালার একটি বড় অংশই লিখেছে খোদ এআই! আর এই নীতিমালা লিখতে গিয়ে এআই যুক্ত করেছে এমন সব ভুয়া তথ্য ও তথ্যসূত্র, বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্বই নেই।
কেলেঙ্কারি ফাঁস
এই কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার যোগাযোগমন্ত্রী সলি মালাতসি তড়িঘড়ি করে জাতীয় এআই নীতিমালাটি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম নিউজ২৪ প্রথম এই জালিয়াতি ধরে ফেলে।
তদন্তে যা পাওয়া গেছে
তদন্তে দেখা গেছে, ওই খসড়া নীতিমালায় ব্যবহৃত ৬৭টি অ্যাকাডেমিক তথ্য সূত্রের মধ্যে অন্তত ৬টিই ছিল এআই-এর মস্তিষ্কপ্রসূত কল্পনা। এআই এমন কিছু জার্নাল নিবন্ধের নাম ব্যবহার করেছে, যেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। দক্ষিণ আফ্রিকান জার্নাল অব ফিলোসফি এবং জার্নাল অব এথিক্স অ্যান্ড সোশ্যাল ফিলোসফি-র মতো নামী প্রকাশনার নামে ভুয়া নিবন্ধের তথ্য ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেখানে।
মন্ত্রীর স্বীকারোক্তি
যোগাযোগমন্ত্রী সলি মালাতসি স্বীকার করেছেন, 'সবচেয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা হলো, সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই এআই-উৎপন্ন তথ্যসূত্রগুলো নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এটি কোনোভাবেই হওয়া উচিত ছিল না। এটি কেবল কারিগরি ত্রুটি নয়, বরং আমাদের নীতিমালার সততা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।'
নীতিমালার লক্ষ্য ও পরিণতি
জাতীয় এই নীতিমালাটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে এআই উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে এআই-এর নৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সরকারের জন্য চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রূপ নিয়েছে।
মানুষের নজরদারির গুরুত্ব
মন্ত্রী সলি মালাতসি আরও বলেন, 'এই অগ্রহণযোগ্য ভুল প্রমাণ করে যে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের কঠোর নজরদারি কতটা জরুরি। আমরা বিনয়ের সঙ্গে এই শিক্ষা গ্রহণ করছি।'
এই নীতিমালা তৈরির নেপথ্যে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। আপাতত নীতিমালাটি সংশোধন করে পুনরায় জনসমক্ষে আনা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।



