ফরিদপুরের যুবক মারুফের তৈরি বিমানে সফল উড্ডয়ন
ফরিদপুরের যুবকের তৈরি বিমানে সফল উড্ডয়ন

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার যুবক মারুফ মোল্যা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি শিক্ষা ছাড়াই নিজের তৈরি এক আসনের ছোট বিমানে সফলভাবে আকাশে উড়েছেন। আর্থিক সংকটে এসএসসির পর পড়াশোনা বন্ধ হলেও প্রযুক্তির সহায়তায় তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।

বিমান নির্মাণের পথ

সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেজুরচলা গ্রামের বাসিন্দা মারুফ মোল্যা টানা সাত মাস ধরে বিমানটি তৈরি করেন। ইউটিউব দেখে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে তার খরচ হয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। সম্প্রতি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে তিনি সফল হন, যদিও প্রথম চেষ্টায় খুব বেশি উচ্চতায় ওঠা সম্ভব হয়নি। তবুও এই উড্ডয়নকে তিনি নিজের স্বপ্নপূরণের পথে বড় অর্জন হিসেবে দেখেন।

প্যারাগ্লাইডার থেকে বিমান

এর আগে মারুফ একটি প্যারাগ্লাইডারও তৈরি করেছিলেন। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের প্যারাগ্লাইডিং দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে গত বছর মাত্র এক লাখ টাকা খরচে সেটি তৈরি করে সফলভাবে উড়েন। পরে মানিকগঞ্জের উদ্ভাবক জুলহাসের তৈরি বিমান উড়তে দেখে নিজেও একটি বিমান তৈরির সিদ্ধান্ত নেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কারিগরি চ্যালেঞ্জ ও সাফল্য

বিমান তৈরির পথ সহজ ছিল না। প্রথম দিকে উড্ডয়নে ব্যর্থ হন তিনি। পরে মানিকগঞ্জ থেকে জুলহাসকে আমন্ত্রণ এনে কিছু কারিগরি ত্রুটি ধরিয়ে নেন। সেই পরামর্শ কাজে লাগিয়ে চূড়ান্ত সফলতা পান মারুফ।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

মারুফের উড্ডয়নের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করেন। শুরুতে যারা উপহাস করেছিলেন, তারাও এখন বিস্ময় ও আনন্দ প্রকাশ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা কাদের শেখ ও ইলিয়াস জানান, গ্রামের কেউ বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও এখন তারা মারুফকে নিয়ে গর্বিত। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবেন বলে মনে করেন তারা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মারুফের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

মারুফ মোল্যা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল আকাশে ওড়ার। গত বছর প্যারাগ্লাইডার দিয়ে উড়েছি, এবার বিমানে উড়তে পেরে খুব ভালো লাগছে। বিদেশ থেকে প্যারাগ্লাইডার আনতে ৯-১০ লাখ টাকা লাগে, আমি মাত্র এক লাখে বানিয়েছি। সরকারি সহায়তা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ পেলে আরও উন্নত ও নিরাপদ বিমান তৈরি করতে চাই।’

চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া

চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘মারুফের উদ্ভাবনী মেধা অসাধারণ। উপযুক্ত কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতা পেলে এই তরুণ শুধু সদরপুর নয়, পুরো দেশের জন্যই সম্মান বয়ে আনতে পারবে।’