মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের অবমুক্ত করা ইউএফও সংক্রান্ত গোপন নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। চাঁদের বুকে পা রাখা দ্বিতীয় ব্যক্তি বাজ অলড্রিন তার ঐতিহাসিক অ্যাপোলো-১১ চন্দ্রাভিযানের সময় অদ্ভুত কিছু আলো ও রহস্যময় বস্তু দেখেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে কয়েক দশকের পুরনো এই অতিগোপনীয় নথি জনসমক্ষে আনা হয়েছে।
অলড্রিনের তিন অস্বাভাবিক ঘটনা
ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপোলো-১১ মিশন শেষে এক ব্রিফিংয়ে অলড্রিন তিনটি অস্বাভাবিক ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “প্রথম যে অস্বাভাবিক জিনিসটি আমরা দেখেছিলাম, সেটি সম্ভবত চাঁদের খুব কাছাকাছি পৌঁছানোর আগের দিন। জিনিসটি বেশ বড় আকৃতির ছিল, তাই আমরা মনোাকুলার (এক চোখের দূরবীন) দিয়ে সেটি পর্যবেক্ষণ করেছিলাম।”
অলড্রিন আরও জানান, অন্ধকারে যখন মহাকাশচারীরা ঘুমানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন কেবিনের ভেতর তিনি রহস্যময় আলোর ঝলকানি দেখেছিলেন। তিনি বলেন, “আমি জানি না প্রথম রাতে এটি দেখেছিলাম কিনা, তবে দ্বিতীয় রাতে নিশ্চিতভাবে দেখেছি। কেবিনের সব আলো নেভানো থাকলেও কয়েক মিনিট পরপর ছোট ছোট আলোর ঝলকানি দেখা যাচ্ছিল।” এ ছাড়া একটি অত্যন্ত উজ্জ্বল আলোর উৎস দেখার কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যেটিকে মহাকাশচারীরা সাময়িকভাবে ‘লেজার’ বলে ধারণা করেছিলেন।
অ্যাপোলো ১২ ও ১৭ মিশনের তথ্যও রয়েছে
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশ করা এ নথিতে শুধু অ্যাপোলো-১১ নয়, বরং অ্যাপোলো-১২ এবং অ্যাপোলো-১৭ মিশনের মহাকাশচারীদেরও অবাক করার তথ্য রয়েছে। নথির ট্রান্সক্রিপ্ট অনুযায়ী, মহাকাশযানের পাশ দিয়ে উজ্জ্বল কিছু বস্তু ভেসে যেতে দেখে মহাকাশচারীরা হতভম্ব হয়ে পড়েছিলেন।
অ্যাপোলো-১৭ মিশনের একজন সদস্য মিশন কন্ট্রোলে রেডিওবার্তায় বলেছিলেন, “এখন আমরা কিছু অত্যন্ত উজ্জ্বল কণা বা খণ্ডাংশ দেখতে পাচ্ছি, যা আমাদের মহাকাশযানের পাশ দিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে।” পরিস্থিতি আরও নাটকীয় মোড় নেয় যখন দেখা যায় অনেকগুলো বস্তু মহাকাশযানটিকে ঘিরে ফেলেছে। আরেকজন ক্রু সদস্য বাইরের দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “আমার জানালার বাইরে একঝাঁক বড় বড় উজ্জ্বল বস্তু দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন আতশবাজির উৎসব (ফোর্থ অব জুলাই) চলছে।”
ছবিতে তিনটি উজ্জ্বল বিন্দু
এ সাক্ষ্যগুলোর সপক্ষে একটি ছবিও অবমুক্ত করা হয়েছে। চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে তোলা ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নিকষ কালো চন্দ্রাকাশে তিনটি রহস্যময় উজ্জ্বল বিন্দু স্থির হয়ে আছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ ‘ডেটা ডাম্প’ বা তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে ইউএপি বা অমীমাংসিত মহাকাশীয় ঘটনা নিয়ে কয়েক দশকের গোপনীয়তার অবসান ঘটল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



