ডিজিটাল সংযোগে বাংলাদেশের অর্ধেক মানুষ এখনও বাদ: জিএসএমএ প্রধান
ডিজিটাল সংযোগে অর্ধেক মানুষ এখনও বাদ: জিএসএমএ প্রধান

জিএসএমএ'র প্রধান জুলিয়ান গোরম্যান বলেছেন, বাংলাদেশে এখনো প্রায় অর্ধেক মানুষ মোবাইল ব্রডব্যান্ড বা স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন না। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সংযোগের আওতায় আনতে পারলে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিপ্লব ঘটবে। ডিজিটাল সংযোগ সরকারি সেবা সহজে ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম, তবে শুধু সংযোগ নয়, প্রয়োজন উদ্ভাবন।

সিম কর প্রত্যাহার ইতিবাচক, তবে স্মার্টফোনের দাম বড় অন্তরায়

গোরম্যান বলেন, সিম কার্ডের ওপর থেকে কর তুলে নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক এবং এটি সংযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে স্মার্টফোনের অতিরিক্ত দাম একটি বড় অন্তরায়। ইন্টারনেট ও অবকাঠামো সাশ্রয়ী করতে অবকাঠামো ভাগাভাগি এবং স্পেকট্রামের মূল্যের দিকে নজর দিতে হবে। বছরের শেষে স্পেকট্রাম নবায়ন প্রক্রিয়ায় অপারেটরদের খরচ কমানোর সুযোগ দিলে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমবে এবং গুণগত মান বাড়বে।

তরুণদের জন্য ডিজিটাল দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ

বাংলাদেশের ৩৫ বছরের কম বয়সী জনসংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ, যা দেশের অন্যতম বড় শক্তি। গোরম্যান বলেন, এই তরুণদের প্রযুক্তিগত আকাঙ্ক্ষা এশিয়ার অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি। ইন্টারনেটে যুক্ত হলে তারা বিনা মূল্যে এআইসহ অসংখ্য দক্ষতা শিখতে পারবে এবং ফ্রিল্যান্সিং বা গিগ ইকোনমির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করতে পারবে। সরকারের ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আইসিটি খাতকে রপ্তানির প্রধান খাত হিসেবে গড়ে তুলতে এই তরুণদের দক্ষ করে তোলার বিকল্প নেই।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফোর-জি কাভারেজ ৯৯%, কিন্তু ব্যবহার কম: কীভাবে ব্যবধান কমানো যায়?

বাংলাদেশে ফোর-জি নেটওয়ার্কের কাভারেজ প্রায় ৯৯ শতাংশ হলেও ব্যবহারের বড় ব্যবধান রয়েছে। গোরম্যান বলেন, প্রথমত যন্ত্রের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, অনলাইন জালিয়াতির ভয়ে আস্থার সংকট দূর করতে হবে। সরকার যখন সব নাগরিক সেবা ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তর করবে, তখন প্রত্যেকের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা তৈরি হবে, যা ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করবে।

নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ: জিএসএমএ'র উদ্যোগ

নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা মোবাইল শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ডিজিটাল স্ক্যাম ও জালিয়াতি বড় উদ্বেগের কারণ। জিএসএমএ 'ইউনাইটেড এগেইনস্ট স্ক্যামস' উদ্যোগের মাধ্যমে জালিয়াতি প্রতিরোধে কাজ করছে। 'ওপেন গেটওয়ে' কর্মসূচির আওতায় এমন প্রযুক্তি আনা হচ্ছে, যা এসএমএস ওটিপি ছাড়াই ব্যাকগ্রাউন্ডে মোবাইল নম্বর যাচাই করতে পারবে, ফলে জালিয়াতির ঝুঁকি কমবে।

আগামী এক দশকে বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ

গোরম্যান বলেন, তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। সরকার আইসিটি খাতকে রূপান্তরের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং সিম কর প্রত্যাহারের মতো সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় উদীয়মান বাজার। ভিয়েতনাম বা ভারতের মতো সঠিক নিয়ন্ত্রণনীতি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ দেশের ডিজিটাল চিত্র বদলে দিতে পারে। জিএসএমএ সব সময় পাশে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানে সহায়তা করবে।