প্রেম নাকি পেইড প্রোমোশন? ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের নতুন ট্রেন্ড
প্রেম নাকি পেইড প্রোমোশন? ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের নতুন ট্রেন্ড

এক ফুড ব্লগারের পরিচিতি অনেক। ফেসবুকে ছয় লাখের বেশি ফলোয়ার, ইউটিউবে সাড়ে চার লাখ সাবস্ক্রাইবার। রাস্তায়-রেস্তোরাঁয় প্রায়ই ভক্তদের সেলফি তোলার আবদার মেটাতে হয়। টুকটাক মোটিভেশনাল স্পিচও দেন নানা জায়গায়। কিন্তু একদিন এক অপ্রস্তুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি।

অপ্রস্তুত প্রশ্ন

এক মেয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করে, 'আপনি খাদ্যমানব না?' প্রশ্ন শুনে তিনি থতমত খেয়ে যান। মেয়েটি আবার বলে, 'ফুডম্যান? আপনিই তো?' তিনি বিব্রত ভঙ্গিতে মাথা নাড়েন। মেয়েটি আরও বলে, 'আপনার বিচার হওয়া উচিত। এত জঘন্য একটা চাওমিন আপনি ভালো বললেন কী করে?' ব্লগার টের পান রেস্তোরাঁয় বসা লোকজন ঘুরে ঘুরে তাকাচ্ছে।

তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে হেসে সত্যি কথাটা বলেন, 'ওটা তো পেইড প্রোমোশন।' মেয়েটি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, 'কিন্তু শুরুতে যে আপনাকে রেস্তোরাঁয় ঢুকতে দিচ্ছিল না? ভিডিও করতে দেবে না বলল...?' ব্লগার তাঁর ট্রেডমার্ক হাসি হেসে বলেন, 'সবই স্ক্রিপ্টেড। একদম রিয়েলিস্টিক মনে হচ্ছিল, তাই না? আজকাল এটাই তো ট্রেন্ড। দিস ইজ নিউ এরা অব ডিজিটাল মার্কেটিং।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রেমের শুরু

মেয়েটির নাম সিলভি। এরপর প্রায়ই তাঁদের দেখা হতে থাকে। কফিশপে, আইসক্রিম পারলারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটান। ইনস্টাগ্রামে তাঁদের ছবির নিচে কমেন্ট আসতে থাকে: 'নাইস কাপল', 'হাউ কিউট', 'ফুডানির পুত তোর এত প্রেম ক্যান...' ইত্যাদি। দুই-একটা অনলাইন নিউজ পোর্টালে তাঁদের নিয়ে খবরও বেরোয়। ভালোই চলছিল।

ঝগড়া ও ভাঙন

কিন্তু এই সুখ বেশি দিন সইল না। একদিন তুমুল ঝগড়া হয় তাঁদের। রেস্তোরাঁর কোনার টেবিলে বসে তারা চিৎকার করে একে অপরকে গালাগাল করে। পরদিনই সেই ঝগড়ার ভিডিওতে ছেয়ে যায় ফেসবুক, ইউটিউব। ব্লগার ভীষণ ভেঙে পড়েন। নিজেকে মনে হন মাংস ছাড়া তেহারি, পেটিহীন বার্গার। সিলভির ফেসবুক প্রোফাইল, ইনস্টাগ্রাম দেখে বুঝতে পারেন, সেও ভালো নেই। ওর চোখের নিচে কালি পড়েছে। ফেসবুক পোস্টে লিখেছে, 'So it’s true when all is said and done, grief is the price we pay for love.'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আশ্চর্য মোড়

এই অসহ্য যন্ত্রণা আর ভালো লাগছিল না। তিনি ভাবছিলেন ওকে ফোন করবেন। সরি বলবেন। এরই মধ্যে একদিন আচমকা দেখেন ইনস্টাগ্রামে ওর ছবি। ঝকমকে। হাসিখুশি। যেন ঝলমল করছে। আশ্চর্য! সিলভি কি অন্য কারও প্রেমে পড়ল? পরদিন দেখেন সে ছোট্ট একটা ভিডিও আপলোড করেছে। ভিডিওতে 'সানশাইন' নামের একটা ক্রিম মুখে মেখে হাসি হাসি মুখ করে বলছে, 'এটা স্রেফ ক্রিমের চেয়ে বেশি কিছু। শুধু হতাশার দাগই নয়, হতাশাও মুছে দেয়...' ইত্যাদি।

সত্যি উদঘাটন

রাগে কাঁপতে কাঁপতে তিনি ওকে ফোন করেন। 'কী হচ্ছে এসব?' সিলভি হাসে। বলে, 'আরে বোকা। এটাকে বলে পেইড প্রোমোশন।' ব্লগার প্রশ্ন করে, 'তাহলে আমাদের রিলেশন? এত দিনের এত কিছু...?' সিলভি উত্তর দেয়, 'সবই স্ক্রিপ্টেড। একদম রিয়েলিস্টিক মনে হচ্ছিল, তাই না? আজকাল এটাই তো ট্রেন্ড। দিস ইজ নিউ এরা অব ডিজিটাল মার্কেটিং,' বলতে বলতে সে ওর ট্রেডমার্ক হাসিটা হাসে।