ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন প্রায় দুই বছরের ব্যবধানে নতুন উচ্চতায় উঠেছে। আজ রোববার ঢাকার বাজারের লেনদেন ছাড়িয়েছে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সেই সঙ্গে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৮০০ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর ঢাকার বাজারে লেনদেন ও সূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান।
লেনদেন ও সূচকের অবস্থান
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে আজ ঢাকার বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। গত ২৩ মাসের ব্যবধানে এটিই ঢাকার বাজারের সর্বোচ্চ লেনদেন। এর আগে সবশেষ ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট ডিএসইতে ২ হাজার ১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। লেনদেনের পাশাপাশি সূচকও প্রায় ২৩ মাসের ব্যবধানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৮৪৯ পয়েন্টে। এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ৯০৪ পয়েন্টের সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল।
বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি
বাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত ৪ জুন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্ব বদলের পর বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে গতি ফেরাতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেও নানা পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে শেয়ারবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীরা আবারও নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। নিষ্ক্রিয় অনেক বিনিয়োগকারী বাজারে সক্রিয় হয়েছেন। তাতে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও গতি সঞ্চার হয়েছে।
শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল
শুধু লেনদেন বা সূচক নয়, আজ ঢাকার বাজারে হাতবদল হওয়া শেয়ার ও বিভিন্ন তহবিলের ইউনিটের সংখ্যাও গত কয়েক বছরের মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ। এদিন ঢাকার বাজারে প্রায় ৫২ কোটি ৭০ লাখ শেয়ার ও ইউনিটের হাতবদল হয়। গত প্রায় দুই বছরের মধ্যে এত শেয়ার ও ইউনিটের হাতবদল হয়েছে। এর আগে সবশেষ ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট ঢাকার বাজারে ৭৬ কোটি শেয়ার ও ইউনিটের হাতবদল হয়েছিল।
বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ
বাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজারে হাতবদল হওয়া শেয়ার ও ইউনিটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া মানে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। এটি বাজারের জন্য ইতিবাচক। একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কিছুদিনে বাজারে পুরোনো নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগকারীরও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সক্রিয় হয়েছেন। যার প্রভাবে ভালো শেয়ারের চাহিদা বেড়েছে বাজারে। আর তাতে বাড়ছে লেনদেন ও সূচকও।
সূচক উত্থানে ভূমিকা রাখা কোম্পানি
ব্রোকারেজ হাউস লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে আজ সূচকের উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, পূবালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, আইডিএলসি, সিটি ব্যাংক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সামিট পাওয়ার ও লাভেলো আইসক্রিম। এই ১০ কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিতে আজ ডিএসইএক্স সূচকটি বেড়েছে প্রায় ৩২ পয়েন্ট।
লেনদেনের শীর্ষে লাভেলো আইসক্রিম
ঢাকার বাজারে আজ লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে লাভেলো আইসক্রিম। এদিন কোম্পানিটির লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় সোয়া ৪ শতাংশ। লেনদেনের দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সরকারি কোম্পানি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন বা বিএসসি। এদিন কোম্পানিটির প্রায় ৪৫ কোটি টাকার শেয়ারের হাতবদল হয়।
মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে বিমা ও মিউচুয়াল ফান্ড
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে আজ মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল বিমা ও মিউচুয়াল ফান্ড। মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ৩টি ছিল বিমা কোম্পানি আর বাকি ৭টি মিউচুয়াল ফান্ড। চলতি অর্থবছরের বাজেটে কর রেয়াত সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে মিউচুয়াল ফান্ডের ওপর থেকে বিনিয়োগের সীমা তুলে নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিএসইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে শক্তিশালী করতে নানা পদক্ষেপ নেবে কমিশন। এসব উদ্যোগ ও পরিকল্পনার ঘোষণা শুনে সাম্প্রতিক সময়ে মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
দরপতনের শীর্ষে দুর্বল কোম্পানি
ঢাকার বাজারে আজ দরপতনের শীর্ষে ছিল দুর্বল মানের কোম্পানি। বিএসইসির চেয়ারম্যান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বন্ধ কোম্পানিগুলোকে ধীরে ধীরে তালিকাচ্যুত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব শেয়ার নিয়ে কারসাজি রোধে বাড়তি নজরদারি করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের কারণে বন্ধ ও দুর্বল মানের কোম্পানির শেয়ারবিমুখ হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।



