ঈদ সামনে রেখে সরকারের বড় ঘোষণা: তৈরি পোশাক শিল্পে ২৫০০ কোটি টাকা বকেয়া সহায়তা ছাড়
সরকারের বড় ঘোষণা: তৈরি পোশাক শিল্পে ২৫০০ কোটি টাকা ছাড়

ঈদ সামনে রেখে সরকারের বড় ঘোষণা: তৈরি পোশাক শিল্পে ২৫০০ কোটি টাকা বকেয়া সহায়তা ছাড়

দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পসহ সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সরকার বকেয়া নগদ সহায়তার বিপরীতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড় করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্যোগ শিল্প মালিকদের জন্য ঈদ পূর্ববর্তী সময়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও উৎসব বোনাস পরিশোধের বাড়তি চাপ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজিএমইএর স্বাগত ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানান, এই অর্থ ছাড়ের ফলে রপ্তানি খাতে বিদ্যমান তারল্য সংকট অনেকাংশে লাঘব হবে। বিজিএমইএ সূত্র নিশ্চিত করেছে, আটকে থাকা নগদ সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড় করার দাবিতে সংগঠনের বর্তমান বোর্ড সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়সহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক পরিচালনা করেছে। এসব ফলপ্রসূ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার দ্রুততম সময়ে এই বিশাল অংকের তহবিল অনুমোদনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় কিস্তির প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার কোটি টাকা মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ লিয়েন ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।

শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও ঈদ পূর্ববর্তী প্রভাব

শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অর্থ ছাড়ের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখা সহজ হবে। বিশেষ করে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে যে আর্থিক টানাপোড়েন ছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এই তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মালিকপক্ষ মনে করছেন, ঈদ উৎসবের আগে এই অর্থ হাতে আসায় শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকি কমবে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখা সম্ভব হবে।

সরকারের এই ইতিবাচক সাড়া রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নতুন উদ্দীপনা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রিজার্ভের ইতিবাচক ধারার মধ্যে রপ্তানি খাতে এই নগদ সহায়তা ছাড় এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কয়েক দিন ধরেই বিজিএমইএ নেতারা সরকারের কাছে বকেয়া অর্থ ছাড়ের জন্য জোরালো দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে রপ্তানি খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনার বিকল্প নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই অর্থ ছাড় করায় শিল্প মালিকরা এখন ঈদ পূর্ববর্তী অন্যান্য আর্থিক বাধ্যবাধকতাগুলো সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার শিল্প খাতের উন্নয়নে আরও একটি ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।