হবিগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্ব নিশ্চিত, আসামিপক্ষের চাপের অভিযোগ
হবিগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্ব নিশ্চিত

হবিগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্ব নিশ্চিত, আসামিপক্ষের চাপের অভিযোগ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহকর্মীকে বিয়ের কথা বলে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির পিতৃত্ব নিশ্চিত হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে।

তদন্তে ধর্ষণের প্রমাণ ও পিতৃত্বের সত্যতা

পিবিআই এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকার বাসিন্দা মুর্শেদ আহম্মদ চৌধুরী মুর্শিদ নামক অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এক গৃহপরিচারিকাকে (৩৩) বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ভিকটিমের অসহায়ত্ব ও মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে অভিযুক্তের বাড়িতে কাজ করার সময় থেকেই ভিকটিমের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরে একাধিকবার জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতনে রূপ নেয়। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ভিকটিম একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন, এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রেজিস্টারে প্রথমে শিশুটির পিতার নাম হিসেবে অভিযুক্তের নাম লিপিবদ্ধ করা হলেও পরবর্তীতে তা কেটে দেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল ও আইনি প্রক্রিয়া

মামলার তদন্তে পিবিআই মোট ৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এবং একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এরপর আদালতের অনুমতিক্রমে ভিকটিম, তার সন্তান এবং অভিযুক্ত মুর্শেদ আহম্মদ চৌধুরী মুর্শিদকে ঢাকার মালিবাগে অবস্থিত সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়, এবং ফলাফলে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা হয় যে কন্যাসন্তানের জৈবিক পিতা অভিযুক্ত মুর্শেদ আহম্মদ চৌধুরী মুর্শিদ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তদন্ত কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র পাল স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে, এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের জন্য আদালতের সিদ্ধান্ত অপেক্ষমাণ আছে।

আসামিপক্ষের চাপের অভিযোগ ও পটভূমি

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় আসামিপক্ষ বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ করছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে যে মুর্শেদ আহম্মদ চৌধুরী মুর্শিদের ছেলে ও নবীগঞ্জ উপজেলা স্কুলের শিক্ষক জামিল আহমেদ চৌধুরী (খোকন) মামলার বাদীকে মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করা হয়, এবং পরে আদালত হবিগঞ্জ পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। ভিকটিম পূর্বে বিবাহিত ছিলেন এবং বর্তমানে চরম অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন, অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি শুরু থেকেই ধর্ষণের অভিযোগ ও সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করে আসছিলেন।