সরকারের মোট ঋণ ২২ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা, কমাতে রাজস্ব বৃদ্ধির নীতি
সরকারের মোট ঋণ ২২ লাখ কোটি টাকা, রাজস্ব বৃদ্ধির নীতি

সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৬ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সংসদে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য

রবিবার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলায় সরকার কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ও ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত প্রায় ১০ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য রাজস্ব সংগ্রহ বাড়িয়ে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো। তিনি জানান, ঋণ গ্রহণের ব্যয় কমানো, ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিকল্পিত ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার মিডিয়াম-টার্ম ডেট ম্যানেজমেন্ট স্ট্র্যাটেজি (এমটিডিএস) গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক ঋণ পোর্টফোলিও আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় ঘোষিত নীতির আলোকে সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি বিনিয়োগ থেকে অধিকতর আয় নিশ্চিত হলে রাজস্ব বাড়বে এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে ঋণের প্রয়োজনও কমে আসবে। তিনি বলেন, সুদ ব্যয় কমাতে বিনিয়োগের ধরন বৈচিত্র্যময় করার ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে সুকুক, সম্পদ সিকিউরিটাইজেশনসহ বিকল্প অর্থায়নের বিভিন্ন উপকরণ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনা

একই অধিবেশনে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার মোট ৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার ছিল মূলধন এবং ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার সুদ। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার গঠনের পর থেকেই বৈদেশিক ঋণকে টেকসই পর্যায়ে রাখার জন্য কাজ করা হচ্ছে।

বৈদেশিক ঋণ প্রকল্পের যাচাই-বাছাই

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বৈদেশিক ঋণনির্ভর সব প্রকল্প ও সংশ্লিষ্ট ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের আগে নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় কোনো প্রকল্প বিদেশি ঋণের মাধ্যমে বাস্তবায়িত না হয়। তিনি বলেন, বৈদেশিক অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো যেন সরকারের অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য এবং নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।