দৌলতদিয়ায় জলাবদ্ধতায় শতাধিক পরিবারের দুর্ভোগ, রাস্তা আটকে বিক্ষোভ
দৌলতদিয়ায় জলাবদ্ধতায় শতাধিক পরিবারের দুর্ভোগ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অবৈধ বালুর চাতালের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় শতাধিক পরিবার দুর্বিষহ অবস্থায় পড়েছে। উঁচু উঁচু বালুর স্তূপ থেকে বের হওয়া পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এবং গত ৩-৪ দিনের ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বিক্ষোভ ও যান চলাচল বন্ধ

বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রোববার দুপুরে বৃষ্টির মধ্যে পার্শ্ববর্তী বাইপাস সড়কে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় প্রায় আধঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সাত্তার মেম্বারপাড়া এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর, আঙিনা, গ্রামীণ সড়ক ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে গিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরেজমিন রোববার গিয়ে দেখা যায়, টানা বৃষ্টির পানি ও বালুর চাতাল থেকে নেমে আসা পানি জমে পুরো এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ বাড়ির উঠান পানিতে ডুবে রয়েছে। রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে থাকায় বাজারে যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ সরকার জানান, বালুর চাতালের কারণে তাদের দূর ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চান।

রুমা খাতুন নামে এক গৃহবধূ জানান, তার স্বামী ঢাকায় একটি বেসরকারি চাকরি করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে বাড়িতে রয়েছেন। তাকে ডাক্তার দেখাতে নেওয়া দরকার। কোলে তার ছোট বাচ্চা, কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে তারা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, "খুবই মানবেতর দিন কাটাচ্ছি। দয়া করে আমাদের এই দুর্বিষহ অবস্থা থেকে বাঁচান।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের পদক্ষেপ

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, জলাবদ্ধতা এবং ভুক্তভোগীদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে সরেজমিন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেই সঙ্গে বালুর চাতাল মালিকদের পানি নিষ্কাশনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সরোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, এলাকাটি এমনিতেই নিচু। চারদিকে রাস্তা। পানি বের হওয়ার সুযোগ নেই। তারা একযোগে তিনটি শ্যালোমেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করেছেন।