সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, মাদক, মৌলবাদ ও উগ্রবাদমুক্ত সমাজ গঠনের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হলো সংস্কৃতি ও শিক্ষা। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবিক ও উন্নত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। তিনি প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান, কবিতা ও সাহিত্যকর্ম আরও বিস্তৃতভাবে অন্তর্ভুক্ত করারও আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য
রবিবার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলা সাহিত্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসামান্য অবদান’ শীর্ষক সম্মিলন ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনকে দেশ-বিদেশে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন নজরুল গবেষক, শিল্পী, কবি ও আবৃত্তিশিল্পীরা।
প্রস্তাবিত উদ্যোগসমূহ
তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—বাস, ট্রেন, বিমানসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে নজরুলের গান ও সৃষ্টিকর্ম প্রচার, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নজরুল প্রতিভা অন্বেষণ, গবেষণা ও কর্মশালা আয়োজন এবং বিদেশে নজরুল কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা।
বক্তারা বলেন, শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, সারাদেশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমিগুলোতে নজরুলচর্চা আরও বিস্তৃত করতে হবে। পাশাপাশি যন্ত্রসংগীত, সভা-সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধ বাণী ও সুরে নজরুলচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
নজরুল বর্ষের ধারাবাহিকতা
মতবিনিময় সভায় আরও বলা হয়, ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে নেওয়া কর্মসূচিগুলো যেন সাময়িক না হয়ে ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকে। জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ, গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার সাহিত্য ও সংগীতের প্রসার, পাবলিক প্লেসে স্মৃতিস্তম্ভ ও নজরুল কালচারাল মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা এবং নজরুল বর্ষ উপলক্ষে একটি থিম সং তৈরিরও প্রস্তাব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে খ্যাতিমান শিল্পীদের পাশাপাশি নবীন শিল্পীদেরও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
শিল্পকলা একাডেমির পরিকল্পনা
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, ‘নজরুল বর্ষ’কে নানা আয়োজনে উদযাপনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর্মসূচিগুলোকে আরও জনমুখী, প্রজন্মভিত্তিক ও ফলপ্রসূ করতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের শিল্পীদের নিয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর আহ্বায়ক হেলাল খান। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
সম্মিলনে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের প্রায় ৪০০ কণ্ঠশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী ও নজরুল গবেষক অংশ নেন। তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল, ইয়াকুব আলী খান, গাজী আব্দুল হাকিম, সীমা ইসলাম, লুবনা মারিয়াম, খায়রুল আনাম শাকিল, সাদিয়া আফরীন মল্লিক, এ এফ এম হায়াত উল্লাহ, সাজু আহমেদ, ফেরদৌস আরা, অধ্যাপক প্রিয়াংকা গোপ, মাহমুদুল হাসান, কল্পনা আনাম, ফাতেমা তুজ জোহরা, সুজিত মোস্তফা প্রমুখ।



