ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টির কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বেড়েছে। গতকাল শনিবার রাতে জেলায় বৃষ্টি কম হলেও উজানের ঢলে বেশির ভাগ নদ-নদীর পানি বেড়েছে। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় স্বল্প মেয়াদে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পানি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার। গতকাল তা ছিল ৭ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার। গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার।
এ ছাড়া ছাতক উপজেলা সদরের কাছে সুরমা নদীর পানি ২৪ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার এবং তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
বৃষ্টিপাত ও অন্যান্য নদীর অবস্থা
সুনামগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৩৭ মিলিমিটার। তার আগের ২৪ ঘণ্টায় হয়েছিল ৪৫ মিলিমিটার। এতে জেলার তাহিরপুর উপজেলার জাদুকাটা নদীর লাউড়েরগড় পয়েন্টে পানি কমেছে ৩ সেন্টিমিটার। এ ছাড়া জগন্নাথপুরের কুশিয়ারা নদীর পানি অপরিবর্তিত আছে।
সড়ক প্লাবিত ও জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন
পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হওয়ায় গতকাল বিকেলে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের শক্তিয়ারখলা এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ঢলের পানি ভাটিতে নামার সুবিধার্থে ওই স্থানের সড়ক নিচু করেই নির্মাণ করা হয়। এ জন্য ঢল নামলেই সেটা প্লাবিত হয়। এতে এলাকার লোকজনের পাশাপাশি পর্যটকেরা ভোগান্তিতে পড়েন।
জেলা প্রশাসক ভবিষ্যতে সেখানে প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণ করে ও সড়কের সীমানা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও স্থানীয়দের বক্তব্য
আজ সকালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শক্তিয়ারখলা এলাকার সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। এখন যানবাহন চলাচলে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। সদর উপজেলার মুসলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মুমিন জানান, বৃষ্টি কম হলেও সীমান্তের চলতি নদ হয়ে পাহাড়ি ঢল নামছে। ঢলের পানি পড়ছে সুরমা নদীতে, যে কারণে বৃষ্টি না হলেও সুরমা নদীর পানি বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞের মতামত ও পূর্বাভাস
পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হচ্ছে। সুনামগঞ্জেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। বৃষ্টি হলে পানি বাড়বে। এতে জেলায় স্বল্প মেয়াদে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা
সুনামগঞ্জে পাঁচ দিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদ-নদী ও হাওরে পানি বেড়েছে। গত মঙ্গলবার জেলায় মৌসুমের সর্বোচ্চ ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এতে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে গত দুই দিন বৃষ্টি কম হওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়।
জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। হাওরে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতিতে করণীয় ও প্রস্তুতি সম্পর্কে উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, জিআর চাল পাঠানো হয়েছে।



