প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ মেলা ২০২৬ ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন। 'বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, বাংলাদেশ হোক প্রথম' এই প্রতিপাদ্যে সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরু ও পুরস্কার বিতরণ
অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পুরস্কার ২০২৫, জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ পুরস্কার ২০২৬, জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার ২০২৫ এবং সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সেরা সুবিধাভোগীদের মধ্যে লাভের অংশ বিতরণ করেন।
পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পরিবেশ পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করা হয়। ছয়টি ক্যাটাগরিতে—ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনটি করে—এই পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রত্যেক পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই তোলা ২২ ক্যারেট সোনার সমমূল্যের নগদ অর্থ, ৫০ হাজার টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদ পান।
প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ ও মেলা পরিদর্শন
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের চত্বরে জলপাই, জারুল ও নিম গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি সাবেক ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা মাঠে অনুষ্ঠিত জাতীয় বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। মেলাটি পরিবেশ সংরক্ষণ, বনায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য আয়োজিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
বিস্তৃত পরিসরে বৃক্ষমেলা ও সরকারি পরিকল্পনা
ঢাকায় মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা ও পরিবেশ মেলার পাশাপাশি সব বিভাগীয় সদর দফতরে ১৫ দিন, ৫৬টি জেলা সদরে ৭ দিন এবং ২৯টি উপজেলায় ৩ দিন করে বৃক্ষমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাকার জাতীয় মেলায় ১২০টি স্টল রয়েছে।
সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পাঁচ বছর মেয়াদি মাস্টার প্ল্যান গ্রহণ করেছে। গত ১৩ জুন কক্সবাজারের দুলাহাজরায় পাঁচ বছর মেয়াদি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ পর্যন্ত বন বিভাগ ৮৩ লাখ ৩২ হাজার চারা রোপণ করেছে, যা এ বছরের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৭ শতাংশ।



