মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত কয়েকদিনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বেড়ে ৭৯ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও কুয়েতের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ।
উত্তেজনার কারণ
ইরান সম্প্রতি কুয়েত ও বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করেছে যে এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
বিশ্ববাজারে প্রভাব
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। এশিয়ার বড় বড় অর্থনীতি যেমন ভারত ও চীনে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি অর্থনৈতিক বছরেই মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। এডিবি তাদের পূর্বাভাসে বলেছে, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ধীর থাকবে এবং মূল্যস্ফীতি উচ্চ থাকবে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি
বাংলাদেশও এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এড়াতে পারছে না। দেশটি তার জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগ আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দামও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যে বগুড়ায় গ্যাস বন্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে, যা জ্বালানি সংকটের ইঙ্গিত দেয়।
ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস
বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমলেও সরবরাহ শৃঙ্খলে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া, ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্তও দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



