লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও মেঘনার পানি বৃদ্ধিতে উপকূলীয় চরাঞ্চলের প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির আমন ও আউশ ধানের বীজতলা, পান ও সবজি সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। কৃষকরা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
প্লাবিত এলাকা ও ক্ষতির পরিমাণ
উপজেলার চারটি ইউনিয়ন—উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী, উত্তর চরআবাবিল ও দক্ষিণ চরআবাবিল—এর দশটি গ্রাম ও বেরিবাঁধের পশ্চিম এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাট, বাজার ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও পানিতে ডুবে গেছে। কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চলে মোট ৩০০ হেক্টর জমিতে আমন ও আউশ ধানের বীজতলা, আরও ৩০০ হেক্টর জমিতে সবজি ও আড়াইশ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়।
কৃষকদের দুর্দশা
উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের কৃষক মিলন মিয়া ৬ একর জমিতে আমন ধানের বীজ বপন করেছিলেন, যা এখন পচা পানির নিচে। তিনি প্রশাসনের কাছে আর্থিক প্রণোদনা ও সহযোগিতা চেয়েছেন। অপর কৃষক আবদুল জলিল বলেন, "দেড় একর জমিতে পান চাষ করি। টানা বৃষ্টিতে পানের বরজ সব নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে বিক্রির কোনো উপায় নেই। ঋণের বোঝা কীভাবে সামলাবো?" তিনি রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও প্রশাসনের বক্তব্য
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী আরও কয়েক দিন ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বজ্রাঘাতের ঝুঁকিও বাড়বে। রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, "বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি, তবে চেয়ারম্যানদের খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে। সরকারিভাবে কোনো অনুদান এখনও আসেনি।"



