দিনাজপুরের বিরলে স্ট্রবেরি চাষে নতুন সম্ভাবনা
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রবিপুর গ্রামে চার কৃষকের যৌথ উদ্যোগে স্ট্রবেরি চাষে সাফল্যের দেখা মিলেছে। শাহরিয়ার হোসেন, আরিফ হোসেন, মনিরুজ্জামান ও ছামিউল ইসলাম নামের এই উদ্যোক্তারা ৮৭ শতাংশ জমিতে স্ট্রবেরিসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ শুরু করেছেন। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, সারি সারি বেডে মালচিং পদ্ধতিতে করা স্ট্রবেরির খেতে সবুজ পাতার ফাঁকে লাল-খয়েরি রঙের স্ট্রবেরি উঁকি দিচ্ছে।
চাষাবাদের বিস্তারিত ও লাভের হিসাব
উদ্যোক্তারা জানান, মোট জমির ২০ শতাংশে পলিনেট হাউস করে কন্দ থেকে চারা প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাকি ৬৭ শতাংশ জমিতে উইন্টারডন, ফেস্টিভ্যাল, আমেরিকান ফেস্টিভ্যালসহ চার জাতের স্ট্রবেরির ১৫ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। নভেম্বরের শেষে চারা রোপণ করে ৭৫ দিনের মাথায় ফল সংগ্রহ শুরু করেছেন তারা। ইতিমধ্যে সাড়ে আট মণ ফল সংগ্রহ করা হয়েছে, প্রতি কেজি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবার প্রায় ১৫০ মণ স্ট্রবেরি পাওয়ার আশা করছেন তারা। জমি ভাড়া, সার-বীজ-কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বাদে এ মৌসুমে সাত থেকে আট লাখ টাকা লাভের প্রত্যাশা রয়েছে।
যৌথ উদ্যোগের শুরু ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা
ছামিউল ইসলামের কৃষির প্রতি আগ্রহ দেখে শাহরিয়ার, আরিফ ও মনিরুজ্জামান এগিয়ে আসেন। বর্তমানে তারা ১২ একর জমিতে যৌথভাবে বিভিন্ন ফসল আবাদ করছেন। বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, ‘দিনাজপুর শীতপ্রধান এলাকা হওয়ায় স্ট্রবেরি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগ এসএসিপি অ্যান্ড রেইনস প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোক্তাদের সার ও কৃষি উপকরণ, পরামর্শ সহায়তা দিয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে স্ট্রবেরি একটি শীতকালীন লতানো গুল্ম-জাতীয় উদ্ভিদ, যা অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত চাষ হয় এবং একটি গাছে গড়ে ২৫-৩০টি ফল ধরে।
স্থানীয় আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
স্ট্রবেরির খেত দেখতে প্রতিদিন স্থানীয় চাষি ও সাধারণ মানুষের ভিড় জমছে। কাহারোল উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুহুল কুদ্দুসের মতো অনেকে চাষাবাদে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। ছামিউল ইসলাম বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে। অনেকে আগাম চারার জন্য বলে যাচ্ছেন। আমরা কয়েক দিনের মধ্যে কন্দ থেকে চারা সংগ্রহের কাজ শুরু করব এবং পলিনেট হাউসে রাখব। আগামী বছর চারা বিক্রি করতে পারব বলে আশা করি।’ তিনি ফেসবুতে ‘বিরল অ্যাগ্রো হাব’ নামে একটি পেজ খুলে তাদের চাষের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন।
এই যৌথ উদ্যোগ শুধু স্ট্রবেরি নয়, শসা, টমেটো, বেগুন, পেয়ারা ও লিচুর বাগান ইজারা নিয়েও কৃষিকাজ সম্প্রসারণ করেছে। দিনাজপুরের মতো অঞ্চলে উচ্চমূল্যের ফসল চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে, যা অন্যান্য কৃষকদেরও উদ্বুদ্ধ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
