নয়টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি
নয় উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ শুরু

কৃষি খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির সূচনা

দেশের কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সরকার একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ‘কৃষক কার্ড’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি বিভাগের মোট নয়টি উপজেলায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

উচ্চপর্যায়ের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত

বুধবার সচিবালয়ের ক্যাবিনেট বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সমীক্ষা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সভাতেই ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী নিশ্চিত করেছেন যে, পরীক্ষামূলক এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

পাইলট প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত উপজেলাসমূহ

পাইলট পর্যায়ে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য নয়টি উপজেলা নির্বাচন করা হয়েছে:

  • টাঙ্গাইল সদর
  • বগুড়ার শিবগঞ্জ
  • পঞ্চগড় সদর
  • জামালপুরের ইসলামপুর
  • ঝিনাইদহের শৈলকুপা
  • পিরোজপুরের নেছারাবাদ
  • মৌলভীবাজারের জুড়ি
  • কুমিল্লা সদর
  • কক্সবাজারের টেকনাফ

কর্মসূচি বাস্তবায়নের পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়া

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনটি পর্যায় অনুসরণ করা হবে। প্রথমত, প্রি-পাইলট পর্যায়ে নির্বাচিত এলাকার সকল শ্রেণির কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এরপর পাইলট পর্যায়ে নয়টি উপজেলার নয়টি নির্দিষ্ট ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। সংগ্রহকৃত তথ্যের ভিত্তিতে এই কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, প্রি-পাইলট ও পাইলট পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন করার পর সরকারের লক্ষ্য রয়েছে আগামী চার বছরের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণ করা।

কৃষকদের জন্য সুবিধাসমূহ

‘কৃষক কার্ড’ ধারণকারী কৃষকরা নানা ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন:

  1. কৃষি উপকরণ ক্রয়: বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ ন্যায্য মূল্যে ক্রয়ের সুযোগ পাবেন।
  2. আর্থিক সহায়তা: সরকারি আর্থিক সহায়তা ও ভর্তুকি সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হবে।
  3. অগ্রাধিকার সুবিধা: ভূমিহীন ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এই কর্মসূচিতে।

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে ভূমিহীন ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য এই কার্ড বিশেষ সুবিধা বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত এলাকায় কর্মসূচি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা ও ফলাফলের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তর ও আধুনিকায়নের দিকে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।