কৃষি বিপ্লবের নতুন অধ্যায়: ৯ উপজেলায় শুরু হচ্ছে 'কৃষক কার্ড' কর্মসূচি
দেশের কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে সরকার একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে আটটি বিভাগের ৯টি উপজেলায় 'কৃষক কার্ড' কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায় শেষ করে আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
উচ্চপর্যায়ের সভায় গৃহীত ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সভায় কৃষি খাতের সংস্কার ও আধুনিকায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কোন কোন উপজেলায় শুরু হবে কর্মসূচি?
সরকার কর্তৃক নির্বাচিত উপজেলাগুলোর তালিকায় রয়েছে:
- টাঙ্গাইল সদর
- বগুড়ার শিবগঞ্জ
- পঞ্চগড় সদর
- জামালপুরের ইসলামপুর
- ঝিনাইদহের শৈলকুপা
- পিরোজপুরের নেছারাবাদ
- মৌলভীবাজারের জুড়ী
- কুমিল্লা সদর
- কক্সবাজারের টেকনাফ
এই উপজেলাগুলোতে সফলভাবে কর্মসূচিটি পরিচালনার পর প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে সারা দেশে এর বিস্তার ঘটানো হবে। প্রতিটি বিভাগ থেকে অন্তত একটি করে উপজেলা বাছাই করা হয়েছে যাতে বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর হাতেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আগামী ১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরীক্ষামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সরাসরি তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ
কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাক-পাইলট পর্যায়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার সব শ্রেণির কৃষকের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করা হবে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে দেশের আটটি বিভাগের ৯টি উপজেলার ৯টি নির্দিষ্ট ব্লকে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। প্রেস সচিব সালেহ শিবলী আরও জানান, প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায় শেষ করে আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই কৃষক কার্ড কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
কৃষকদের জন্য কী সুবিধা থাকবে?
এই কার্ডধারী কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বীজ, সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন এবং সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকারি আর্থিক অনুদান ও ভর্তুকি পৌঁছে দেওয়া হবে। বিশেষ করে ভূমিহীন ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা এর মাধ্যমে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে এবং তাদেরকে সরকারি বিভিন্ন সুবিধার আওতায় আনা হবে।
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও সম্ভাবনা
এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কার্ডধারী কৃষকরা শুধু সরকারি সুবিধাই পাবেন না, বরং তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতেও এই কার্ড সহায়ক হবে। এছাড়া কৃষি উপকরণের সরবরাহ চেইনে স্বচ্ছতা আনতে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এই কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের এই উদ্যোগ কৃষি খাতের আধুনিকায়নে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
