নাটোরের সিংড়ায় হাঁসের ডিমের দাম অর্ধেকে নেমেছে, খামারিরা বিপাকে
সিংড়ায় হাঁসের ডিমের দাম অর্ধেকে, খামারিরা বিপাকে

নাটোরের সিংড়ায় হাঁসের ডিমের দামে চরম পতন, খামারিরা উদ্বিগ্ন

নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লেও নাটোরের সিংড়া উপজেলায় হাঁসের ডিমের বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। গতকাল মঙ্গলবার ও আজ বুধবার সকালে সিংড়ার পাইকারি বাজারে হাঁসের ডিমের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে ক্রেতারা স্বস্তি পেলেও খামারিরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

ডিমের বাজারে সরবরাহ বাড়লেও চাহিদা কম

সিংড়া উপজেলা সদরে অবস্থিত পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত হাঁসের ডিমের সরবরাহ দেখা গেছে। প্রতিটি ডিম আকারভেদে ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রোজা শুরুর আগে ১৫ থেকে ২০ টাকা ছিল। একাধিক ক্রেতা ও বিক্রেতা জানান, কম দামে ডিম কিনতে পেরে আড়তদাররা সন্তুষ্ট হলেও খামারিরা উৎপাদন খরচের তুলনায় এই দামকে অত্যন্ত কম বলে উল্লেখ করেছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি হিসাবে চলনবিল এলাকায় হাঁসের বড় খামার আছে ৪৫১টি। এ ছাড়া প্রায় প্রতিটি বসতবাড়িতে ছোট আকারে হাঁস পালন করা হয়। সব মিলিয়ে উপজেলায় আড়াই লাখের বেশি হাঁস আছে। উৎপাদিত ডিমের পাইকারি বাজার বসে উপজেলা সদরে, তবে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা সরাসরি খামার থেকে ডিম কিনে দেশের বিভিন্ন আড়তে সরবরাহ করেন।

খামারিদের বক্তব্য: উৎপাদন খরচের চেয়ে দাম কম

ডাহিয়া গ্রামের খামারি মকছেদ আলী বলেন, ‘হাঁসের খাওয়ার খরচ, ওষুধপত্র ও পাটের (কর্মী) খরচ অনেক বেড়ে গেছে। একটি ডিম উৎপাদন করতে খরচ হয় প্রায় ১২ টাকা। অথচ ডিম বিক্রি করছি ৮ থেকে ১০ টাকায়। এভাবে চললে খামার বন্ধ করে দিতে হবে।’

ডিমের আড়তদার আবদুল ওহাব বলেন, রোজার সময় চাহিদা কম থাকায় দাম কমেছে। উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ডিমের ন্যূনতম দাম ১২ থেকে ১৫ টাকা হওয়া উচিত। তবে ছোট ডিম ৮ থেকে ৯ টাকা এবং বড় ডিম ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাঁর ধারণা, রোজার পর দাম আবার বাড়তে পারে।

বিশ্লেষণ: পোলট্রি ডিমের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ঢাকা থেকে আসা পাইকার মওদুদ মওলা বলেন, দাম কম হলেও বেচাকেনা তেমন জমছে না। রোজার কারণে মানুষ হয়তো কম খাচ্ছেন। তবে এখান থেকে ডিম কিনে ঢাকায় বিক্রি করতে দামে বড় কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাশরিফুল ইসলাম মন্তব্য করেন, পোলট্রি ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় হাঁসের ডিমের চাহিদা কমেছে। তিনি বলেন, বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে, তবে পরিস্থিতি সাময়িক। দ্রুতই খামারিরা ন্যায্য দাম পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সিংড়া উপজেলার এই অবস্থা স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে, যেখানে খামারিরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি হস্তক্ষেপ বা বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে।