চান্দিনায় ভিজিডি চালে পোকা: খাদ্য কর্মকর্তা বৃষ্টিকে দায়ী, স্থানীয়রা তদন্ত দাবি
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় গ্রামীণ দারিদ্র্য ও দুস্থ নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সর্ববৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি (ভিজিডি) বিতরণকৃত চালে পোকা পাওয়া গেছে। ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশের মতো চান্দিনার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভিজিডি কার্ডধারী সুবিধাভোগীদের মাঝে জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে।
নষ্ট চালের ঘটনা ও সুবিধাভোগীদের প্রতিক্রিয়া
গত সপ্তাহের শেষদিকে উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নে ১০০ সুবিধাভোগীর জন্য ৩ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়। বাতাঘাসী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাদেকুর রহমান চাল বিতরণ করেন। সুবিধাভোগীরা ইউনিয়ন অফিস থেকে ৩০ কেজির বস্তাভর্তি চাল বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর অন্তত ১৬ জন বিপদে পড়েন। তাদের বস্তার পুরো চাল পঁচা ও পোকায় আক্রান্ত ছিল। সঙ্গে সঙ্গেই তারা ওই চাল নিয়ে ইউনিয়ন অফিসে হাজির হন।
চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান বলেন, "আমি চাল বিতরণ করে অফিসে বসার কিছুক্ষণ পর থেকে এক এক করে কার্ডধারী সুবিধাভোগীরা মাথায় করে চালের বস্তা নিয়ে আমার অফিসে আসে। তাদের কথা শুনে আমি বস্তা খুলে দেখি, চালগুলো পঁচে কালচে হলুদ হয়ে আছে। আর সেগুলোতে ছোট-বড় পোকার অভাব নেই।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুদাম থেকে পাওয়া ১০০ বস্তা চালের মধ্যে ১৬ বস্তার চাল নষ্ট ছিল এবং প্লাস্টিকের বস্তায় থাকায় বিতরণের সময় তা দেখা যায়নি।
খাদ্য কর্মকর্তার ব্যাখ্যা ও স্থানীয়দের সন্দেহ
উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাইমুল করিম টিটু দাবি করেন, বাতাঘাসী ইউনিয়ন পরিষদে বিতরণকৃত চাল ৭নং গুদাম থেকে এসেছে। তিনি বলেন, "ওই গুদামের ছাদ চুইয়ে ভেতরে পানি পড়ে কয়েকটি বস্তার চাল নষ্ট ছিল। শ্রমিকরাও সেগুলো খেয়াল করেনি। চালগুলো আমরা ফেরত নিয়ে এসে ভালো চাল দেব।"
তবে স্থানীয়রা সরেজমিনে খাদ্যগুদামের ৭নং গোডাউনে গিয়ে দেখেন, ছাদের যে অংশে চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ার কথা বলা হচ্ছে, সেই অংশে চালের কোনো বস্তাই ছিল না। এমনকি গত ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হয়নি বলে তারা উল্লেখ করেন। ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, খাদ্য গুদামে নষ্ট চালের বস্তা থাকা উচিত নয় এবং গুদামের সঙ্গে জড়িত কিছু অসাধু ব্যক্তিদের যোগসাজসে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
তদন্তের দাবি ও সামগ্রিক প্রভাব
স্থানীয়রা বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনা ভিজিডি কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলেছে। গ্রামীণ দারিদ্র্য ও দুস্থ নারীদের জন্য এই সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিতে নষ্ট চাল সরবরাহ সুবিধাভোগীদের আস্থা হ্রাস করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
উপজেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নষ্ট চালগুলো ফেরত নিয়ে ভালো চাল দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য নজরদারি বাড়ানো হবে। তবে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ ও সন্দেহ রয়ে গেছে, যা দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।
