নাটোরের সিংড়ায় হাঁসের ডিমের দামে ধস, খামারিরা লোকসানের মুখে
নাটোরে হাঁসের ডিমের দাম ধস, খামারিরা দিশেহারা

নাটোরের সিংড়ায় হাঁসের ডিমের দামে ধস, খামারিরা লোকসানের মুখে

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় হাঁসের ডিমের দাম হঠাৎ করেই ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় চলনবিল অঞ্চলের খামারিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মাত্র এক মাস আগেও পাইকারি বাজারে প্রতি পিস ডিম ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকায়। এই আকস্মিক দাম পতনে খামারিরা উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না, ফলে তারা চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন।

চলনবিলের হাটে ডিমের বাজার পরিস্থিতি

চলনবিল অঞ্চলের বৃহত্তম হাঁসের ডিমের হাট ঘুরে দেখা যায়, হ্যাচারিতে বাচ্চা ফোটানোর উপযোগী বড় ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা পিস এবং ছোট ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকায়। এই দাম গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থিতিশীলভাবে নিচু স্তরে রয়েছে, যা খামারিদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় খামারি জাহিদ হাসান বলেন, "ডিমের দাম এত কমে গেছে যে আমরা লোকসানে পড়ে গেছি। এভাবে দাম কম থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। সব ধরনের খাবারের দাম বেড়েছে, অথচ ডিমের দাম কমছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে হাঁস পালন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবো।"

দাম কমার কারণ ও পাইকারদের মতামত

ডিমের পাইকার শহিদুল ইসলাম জানান, বাজারে সরবরাহ বেশি এবং বেচাকেনা কম হওয়াই মূলত দাম কমার পেছনে প্রধান কারণ। তিনি বলেন, "এছাড়া গরমের কারণে চাহিদা কিছুটা কমেছে। এ কারণে দাম কমেছে বলে আমি মনে করি। তবে আমি আশা প্রকাশ করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং দাম কিছুটা বাড়বে।" চলনবিলের ডিম আড়ৎদার ওহাব আলী এই বিষয়ে মন্তব্য করেন, "রমজানকে ঘিরে বাজারে দামের পতন হয়েছে। খাবারের যে দাম, সেই হিসেবে ডিমের ন্যূনতম দাম ১২ থেকে ১৫ টাকা হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমানে ছোট ডিম ৮ থেকে ৯ টাকা এবং বড় ডিম ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা একেবারেই অযৌক্তিক।"

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ব্যাখ্যা ও আশ্বাস

সিংড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাশরিফুল ইসলাম এই পরিস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, "পোল্ট্রি ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারভিত্তিক এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটি সাময়িক সমস্যা বলে আমরা মনে করছি। আশা করছি দ্রুতই বাজার স্বাভাবিক হবে এবং খামারিরা ন্যায্য মূল্য ফিরে পাবেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারি পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

খামারিদের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য সমাধান

এই সংকট মোকাবিলায় খামারিরা বেশ কয়েকটি দাবি তুলেছেন:

  • ডিমের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া
  • খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদান
  • বাজার মনিটরিং জোরদার করা
  • রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করা

স্থানীয় বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে চলনবিল অঞ্চলের হাঁস পালন শিল্প মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। অনেক খামারি ইতিমধ্যেই বিকল্প পেশার দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।