দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে এই ইউনিটের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এর আগে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যুৎ সরবরাহের বর্তমান অবস্থা
কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বর্তমানে প্রথম ইউনিট থেকে প্রতিদিন ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ইউনিটটি চালু হওয়ায় এ অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বন্ধের আগে এই ইউনিট থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো, যার জন্য দৈনিক ৭০০ মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হতো।
কেন্দ্রের অন্যান্য ইউনিটের অবস্থা
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লার ওপর ভিত্তি করে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে গেলে ১৫ দিন পর ১৪ জানুয়ারি পুনরায় চালু হয়। তবে বুধবার রাতে কয়লার সঙ্গে পাথর আসায় প্রথম ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যায় এবং কুলিং ফ্যান ভেঙে গিয়েছিল, যা মেরামত করে আবার চালু করা হয়েছে।
লোডশেডিংয়ে স্বস্তি
প্রথম ইউনিট চালু হওয়ায় পার্বতীপুর ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং লোডশেডিংয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে।



