মাদারগঞ্জে ফুয়েল কার্ড সংকট: ৫ হাজার কৃষক ডিজেল না পেয়ে সেচহীন, ফসল উৎপাদনে হুমকি
মাদারগঞ্জে ফুয়েল কার্ড সংকট, ৫ হাজার কৃষক সেচহীন

মাদারগঞ্জে ফুয়েল কার্ড বিতরণে ঘাটতি: কৃষকদের সেচ সংকটে ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে

জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় কৃষকদের জন্য সরকারি ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলেও, অধিকাংশ কৃষক এখনো এই কার্ড থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ফলে প্রায় ৫ হাজার সেচপাম্পের মালিক সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন না, যা ইরি-বোরো মৌসুমে ফসল উৎপাদনে মারাত্মক সংকট সৃষ্টি করছে।

ফুয়েল কার্ড প্রাপ্তির হালনাগাদ পরিসংখ্যান

মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, এই উপজেলায় মোট ৭ হাজার ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র রয়েছে, কিন্তু বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত মাত্র ২ হাজার কৃষকের মধ্যে ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, প্রায় ৫ হাজার নিবন্ধিত কৃষক এখনো কার্ড পাননি, ফলে তারা ডিজেল না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সেচ সংকট ও ফসল উৎপাদনের সম্ভাব্য ক্ষতি

এবার মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭ হাজার ডিজেলচালিত অগভীর নলকূপ বা সেচযন্ত্রের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হয়। এসব যন্ত্র চালাতে প্রতিদিন কয়েক লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। ফুয়েল কার্ড না পাওয়ায় কৃষকরা ডিজেল সংগ্রহ করতে পারছেন না, ফলে ভরা মৌসুমে সেচসংকটে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষকদের প্রত্যক্ষ অভিযোগ ও ভোগান্তি

মাদারগঞ্জ উপজেলার কামারিয়া চরের কৃষক হবিবরসহ একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, "এবার ইরি ধান লাগিয়ে ভুল করেছি। ধানের যখন পানির প্রয়োজন, তখন হঠাৎ বাজারে ডিজেল নেই। খোলা বাজারে ডিজেল বিক্রি বন্ধ করায় আমরা বিপাকে পড়েছি। বাজারে ঘুরেও ডিজেল পাওয়া যায় না।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক মাহবুব ও এরশাদ হোসেনের মতো অনেকে বলেছেন, "এবার ইরি-বোরো মৌসুমে চরম ডিজেল সংকটে আমরা বিপাকে পড়েছি। কোথাও এক লিটার ডিজেলও পাওয়া যায় না। সরকারিভাবে তেল পাওয়ার জন্য ফুয়েল কার্ড পেতে নানা ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। তা ছাড়া উপজেলা সদরে গিয়ে ডিজেল সংগ্রহ করাও অনেক কঠিন। বৈশাখের কাঠফাটা রোদে আমাদের ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এবার ফলন কমে যাবে।"

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা

মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন গত ৯ এপ্রিল কৃষকদের জন্য ফুয়েল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করলেও, গত ১৫ দিনে মাত্র ২ হাজার কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা সদরের দুটি ফিলিং স্টেশনে শত শত কৃষক সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু অনেকেই কাঙ্ক্ষিত তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, "আমরা পাম্পে উপস্থিত হয়ে কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ করছি। আজ মোটামুটি যারা এসেছেন, সবাই তেল পেয়েছেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়ায় সেচের প্রয়োজন কিছুটা কমছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই না হলে ইনশাল্লাহ ফলনে সমস্যা হবে না।"

সম্ভাব্য সমাধান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ফুয়েল কার্ড বিতরণ বাড়ানো এবং ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন এই সমস্যা দূর করতে।