সরকারের বিনামূল্যে এন্টারপ্রাইজ বেজড ট্রেনিং: প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি নিশ্চিত
সরকারের বিনামূল্যে এন্টারপ্রাইজ বেজড ট্রেনিং শুরু

সরকারের বিনামূল্যে এন্টারপ্রাইজ বেজড ট্রেনিং: যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ

সরকার দেশের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা যুব জনগোষ্ঠীকে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং কর্মজীবনে প্রবেশে সহায়তার জন্য একটি যুগান্তকারী কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। অ্যাক্সেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন (অ্যাসেট) প্রকল্পের অধীনে এন্টারপ্রাইজ বেজড ট্রেনিং (ইবিটি) নামের এই কর্মসূচি আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে চালু হবে।

প্রশিক্ষণের বিস্তারিত ও লক্ষ্যমাত্রা

এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশব্যাপী হাতে-কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণ পাবেন তরুণেরা। শিল্পকারখানা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩৩টি ইন্ডাস্ট্রি পার্টনারের অধীন প্রায় ৭০০ শিল্পকারখানা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন।

অগ্রাধিকার ও যোগ্যতা

এই প্রশিক্ষণে নারী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অংশগ্রহণকারীদের অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থাকতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষে সফল প্রশিক্ষণার্থীদের সরকারি সনদ প্রদান করা হবে, যা তাঁদের কর্মসংস্থানে সহায়ক হবে।

আর্থিক সুবিধা ও ভাতা

প্রশিক্ষণার্থীরা আর্থিক সুবিধাও পাবেন, যা এই কর্মসূচিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে:

  • সাধারণ প্রশিক্ষণার্থীরা প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা পাবেন।
  • নারী, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য মাসিক ২০০০ টাকা ভাতা নির্ধারিত রয়েছে।
  • যাতায়াত ভাতা হিসেবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০০ টাকা, মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত প্রদান করা হবে।

প্রশিক্ষণের ধরন ও সময়সীমা

এই প্রকল্পের আওতায় বিনা মূল্যে মোট ছয় ধরনের প্রশিক্ষণে ভর্তি নেওয়া হবে:

  1. ৩ দিনের ইএমটিপি সফট স্কিলস: শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক, সিইও ও ব্যবস্থাপকদের জন্য।
  2. ১৪ দিনের এমএমটিপি সফট স্কিলস: শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের জন্য।
  3. ২১ দিনের এসইউটিপি টেকনিক্যাল স্কিলস: শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য।
  4. ৩ মাসের এডিটিপি টেকনিক্যাল স্কিল: এনইইটি যুবকদের জন্য, যেখানে অর্ধেক সময় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে এবং অর্ধেক সময় শিল্পকারখানায় শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজের সুযোগ থাকবে।
  5. ৩ মাসের টিএসটিপি টেকনিক্যাল স্কিল: শিল্পকারখানায় প্রশিক্ষণ।
  6. ৬ মাসের আইএইচটিপি টেকনিক্যাল স্কিলস: শিল্পকারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ।

একজন প্রশিক্ষণার্থী একই কোর্স বা পেশায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন, যা তাঁদের ক্যারিয়ার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ক্লাস শুরু ও তথ্য প্রাপ্তি

এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পরবর্তী ব্যাচের ক্লাস আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে প্রকল্পের ওয়েবসাইটে www.asset-dte.gov.bd। সরকারের এই উদ্যোগটি দেশের যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।