জ্বালানি সরবরাহে নতুন সংযোজন: ৩০ হাজার টন তেল এসেছে চীনা জাহাজে
দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা চাপের মধ্যে থাকলেও ইতিবাচক সংবাদ নিয়ে এসেছে একটি জাহাজ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। এই জাহাজে ১০ হাজার টন ডিজেল এবং ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল রয়েছে, যা চীনা প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ করেছে।
জ্বালানির ব্যবহার ও বর্তমান পরিস্থিতি
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র থেকে জানা গেছে, জাহাজে আনা ডিজেল পরিবহণ ও শিল্প খাতে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে, জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরগুলোতে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহে বিলম্বের কারণে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসে তেল নিয়ে মোট ১৭টি জাহাজ দেশে আসার কথা ছিল, এর মধ্যে আগে আটটি জাহাজ এসেছে এবং বৃহস্পতিবার আরও একটি জাহাজ যোগ হয়েছে।
জাহাজ আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, “পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ডিজেল ও জেট ফুয়েল নিয়ে জাহাজটি আজ সকালে দেশে এসেছে। এখন জ্বালানিসংকট নেই। আমরা বিকল্প উৎস থেকেও তেল সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
জ্বালানি আমদানির পদ্ধতি ও পরিসংখ্যান
বিপিসি সাধারণত সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করে থাকে। বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল অন্তর্ভুক্ত। এই অপরিশোধিত তেল মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। মোট চাহিদার ২০ শতাংশ অপরিশোধিত আকারে এনে দেশে পরিশোধন করা হয়, বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয় ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়াসহ আটটি দেশ থেকে।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ
এদিকে, আগামী এপ্রিল মাসে সমুদ্রপথে ১৪টি জাহাজ এবং পাইপলাইনে ৩টি পার্সেলের মাধ্যমে মোট ৩ লাখ টন ডিজেল, ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৫ হাজার টন অকটেন এবং ৫০ হাজার টন ফার্নেস তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল এবং পাইপলাইনে ২০ হাজার টন সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। এছাড়া, আগামী মে মাসে ১৭টি জাহাজে সাড়ে তিন লাখ টন ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি আসার সূচি ঠিক করা হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি ও নিশ্চিতকরণে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, বিশেষ করে পরিবহণ ও শিল্প খাতের চাহিদা মেটাতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।



