জ্বালানি সংকটে সন্দ্বীপে যান চলাচল প্রায় বন্ধ, বাসিন্দাদের উদ্বেগ
জ্বালানি সংকটে সন্দ্বীপে যান চলাচল প্রায় বন্ধ

জ্বালানি সংকটে সন্দ্বীপে যান চলাচল প্রায় বন্ধ, বাসিন্দাদের উদ্বেগ

চট্টগ্রামের একমাত্র দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনের শব্দে ব্যস্ত থাকত সড়কগুলো, কিন্তু এখন সেই দৃশ্য আর নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, যদি এই সংকট চলতে থাকে, তবে পুরো দ্বীপে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

চালকদের হতাশা ও সংকটের তীব্রতা

সন্দ্বীপে সাধারণত মোটরসাইকেল, পেট্রলচালিত অটোরিকশা, কার ও মিনিবাসের মতো যানবাহন চলাচল করে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই বাজারে অকটেন ও পেট্রলের সংকট দেখা দেয়, তবে গতকাল বুধবার বিকেল থেকে সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। পেট্রলচালিত বাহনের চালকেরা তেলের খোঁজে দোকান থেকে দোকানে ছুটছেন, কিন্তু কোথাও তেল পাচ্ছেন না। দুই–এক জায়গায় পাওয়া গেলেও সেখানে তাঁদের দ্বিগুণ দাম দিতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্বীপটির অন্তত ১০ জন চালক জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকালে হন্যে হয়ে খুঁজেও তেলের সন্ধান পাননি তাঁরা। আনোয়ার হোসেন নামের এক টেম্পোচালক বলেন, তিনি সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তেলের জন্য বিভিন্ন বাজারে ঘুরেছেন, কিন্তু কোথাও এক ফোঁটা তেল পাননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুপ্তছড়া বাজারে ২০০ টাকায় পেট্রল বিক্রির খবর পেয়ে বাড়তি দামেই কিনতে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানেও তেল পাননি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও আশঙ্কা

অটোরিকশাচালক মো. আরিফ বলেন, ‘এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীকাল শুক্রবার থেকে রাস্তায় কোনো গাড়ি থাকবে না। আমাদের অবস্থা কী হবে, জানি না। আমাদের আয়রোজগারের অন্য কোনো পথ নেই।’ তাঁর এই মন্তব্য দ্বীপের চালকদের হতাশা ও উদ্বেগকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সন্তোষপুর ইউনিয়নের জ্বালানি তেল বিক্রেতা আহমেদ সুমন বলেন, ‘ঈদের আগেই আমার তেল আসার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেল আসেনি। কবে আসবে, তা জানি না। এ কারণে চাহিদামতো তেল কাউকে দেওয়া যাচ্ছে না।’ তাঁর কথায় বোঝা যায়, সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটায় এই সংকট আরও গভীর হয়েছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা বলেন, এই সংকট কাটানোর জন্য তিনি চেষ্টা করছেন এবং দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এখনও অপেক্ষায় রয়েছেন, কবে নাগাদ এই সংকটের সমাধান হবে।

সন্দ্বীপের মতো দ্বীপ অঞ্চলে যানবাহন চলাচল কমে যাওয়া শুধু পরিবহন সমস্যা নয়, এটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চালকদের আয়রোজগার বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও অসুবিধা দেখা দিচ্ছে। আশা করা যায়, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে এবং দ্বীপের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসবে।