আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য নিয়ে অস্থিরতার অভিঘাত দেশের জনগণের ওপর না পড়ার লক্ষ্যে সরকার সহনশীল থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, আমরা সতর্কভাবে ডিজেলে দাম বাড়িয়েছি এবং এটার ব্যাখ্যাও আমি সংসদে দিয়েছি।
মাসুকগঞ্জ বাজারে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজারে ঐতিহাসিক বাসিয়া খাল খনন প্রকল্পের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দেশে ডিজেলের দাম মাত্র ১৫ শতাংশ বেড়েছে, ১০০ টাকার ডিজেল ১১৫ টাকা। অথচ আশপাশের যে কোনো দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশ থেকে বেশি। আমরা সতর্কভাবে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছি। যাতে জনগণের ওপর বেশি অভিঘাত না পড়ে।
৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির ফলে একটি ট্রাক যদি ২০০ কিলোমিটার পণ্য পরিবহন করে যায় তাহলে কেজি প্রতি পণ্যমূল্য ৩০ পয়সা বাড়তে পারে। এটুকু বৃদ্ধির কারণে সত্যিকার মূল্যস্ফীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।
সিলেটে লোডশেডিং বৃদ্ধি প্রসঙ্গে
সিলেটে সাম্প্রতিক লোডশেডিং বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস। আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে অনেক অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা লাভ করেছি, যা এখন মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনও অনেকাংশে গ্যাসনির্ভর। দেশে বর্তমানে ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হলেও চাহিদা মেটাতে আরও ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করতে হয়। অর্থের সংস্থান থাকলেও কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে চাহিদা মাফিক গ্যাস আমদানি ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। তবে সরকার দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে এবং এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।



