জ্বালানি মন্ত্রী: প্রকৃত সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জাতীয় সংসদে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট বর্তমানে নেই। বরং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও চক্র কৃত্রিমভাবে লাইনের মাধ্যমে সংকটের চিত্র তৈরি করে বাজারকে অস্থির করছে এবং একটি অনানুষ্ঠানিক বাজার গড়ে তুলছে।
সংসদে জরুরি আলোচনায় মন্ত্রীর বক্তব্য
আজ জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা (বিধি-৬৮) এ অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এ বিষয়ে নোটিশ উত্থাপন করলে মন্ত্রী বিস্তারিত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন।
মন্ত্রী সংসদকে অবহিত করে জানান, বর্তমান সময়ে দেশের জ্বালানি মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। ডিজেল, অকটেন, পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত বিদ্যমান। এছাড়া মেরিন ফুয়েল ও জেট ফুয়েলের সরবরাহও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ বিগত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
ইকবাল হাসান মাহমুদ দাবি করেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে বিভিন্ন জ্বালানির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে ডিজেলের সরবরাহ প্রায় ৩৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহও ৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি নিতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও সেটি প্রকৃত সংকট নয়। একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে চাপ সৃষ্টি করে অনানুষ্ঠানিক বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে বাজারে বিকৃতি ঘটাচ্ছে।
সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ
জ্বালানি মন্ত্রী জানান, সরকার নিয়মিতভাবে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং প্রশাসনের সমন্বয়ে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে। এই অভিযানের মাধ্যমে:
- অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি চিহ্নিত করা হচ্ছে
- বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করা হচ্ছে
- উদ্ধারকৃত জ্বালানি পুনরায় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে
এলপিজি গ্যাস মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে
এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই খাতটি প্রাইভেট সেক্টরের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সরকার সরাসরি মূল্য নিয়ন্ত্রণে নেই। বর্তমানে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
জাতীয় ঐক্যের আহ্বান
মন্ত্রী সংসদে বিরোধী দলসহ সকল সদস্যের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, জ্বালানি খাতে অস্থিরতা দূর করতে জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত প্রয়োজন। এই কৃত্রিম লাইনের বিরুদ্ধে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে, যাতে জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের সুবিধার জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধান করে বাস্তব চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানান।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, জ্বালানি খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত রয়েছে এবং অসাধু চক্রের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।



