জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন পদক্ষেপ
জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতিমালার অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহ থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালিত হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
একাডেমিক কাউন্সিলের বিশেষ সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত
বুধবার উপাচার্যের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ৭৭তম বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন। তিনি তার বক্তব্যে বৈশ্বিক দুর্যোগের এই সময়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি রোধে অনলাইন ক্লাসের প্রস্তুতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
উপাচার্য আরও বলেন, ‘অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, এই সংকট দ্রুতই কেটে যাবে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।’ তার এই মন্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সচেতনতা ও দূরদর্শিতার প্রতিফলন ঘটেছে।
জ্বালানি ব্যয় সাশ্রয়ে পরিবহন খাতের ভূমিকা
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন পরিবহন খাতের জ্বালানি ব্যয়ের চিত্র উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সপ্তাহে অন্তত এক দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ রাখলে জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব হবে। এই পদক্ষেপটি শুধু আর্থিক দিক থেকেই নয়, বরং পরিবেশগত দিক থেকেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
সভায় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, ছাত্রকল্যাণ পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন কার্যক্রমের প্রস্তুতি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনলাইন কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করেছে:
- অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করা।
- শিক্ষকদের জন্য ডিজিটাল টুলস ব্যবহারের প্রশিক্ষণ প্রদান।
- শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট সংযোগ ও ডিভাইস সহায়তা নিয়ে পরামর্শ সেবা চালু করা।
এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি জ্বালানি সংকটের মধ্যেও শিক্ষার মান অক্ষুণ্ণ রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। আশা করা যায়, অনলাইন কার্যক্রমের এই ধারা ভবিষ্যতেও জরুরি পরিস্থিতিতে মডেল হিসেবে কাজ করবে।



