নগদে বিদেশি বিনিয়োগের নীতি চূড়ান্ত হয়নি, ব্যাংক গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা
নগদে বিদেশি বিনিয়োগ নীতি চূড়ান্ত হয়নি, গভর্নরের বৈঠক

নগদে বিদেশি বিনিয়োগের নীতি চূড়ান্ত হয়নি, গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও নগদে বিদেশি বিনিয়োগের নীতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরকার এই খাতে ব্যক্তিবিনিয়োগের সুযোগ দিলে বিদেশি বিনিয়োগ সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত নেয়, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংসদ সদস্যের বৈঠক ও চিঠি

আজ মঙ্গলবার গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি ঢাকা থেকে একটি আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের লেখা চিঠিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরীক্ষা পরিচালনার অনুমতি চেয়ে অনুরোধ করা হয়।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল, নগদে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান জানান, বিভিন্ন বিদেশি বিনিয়োগকারী নগদে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এই মুহূর্তে একটি বিনিয়োগকারীর পক্ষ থেকে আইনজীবী হিসেবে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পরিচয়

এই বিনিয়োগকারী কারা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান নাম বলেননি। তবে তিনি জানান, তাদের তিন মহাদেশে বিনিয়োগ আছে। এখন তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়। তিনি একজন আইনজীবী হিসেবে তাদের স্থানীয় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন। এই বিনিয়োগকারীদের আইনি সহায়তা দিচ্ছেন তিনি।

ব্যারিস্টার আরমান আরও বলেন, বড় কোম্পানির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকার কারণে এই বিনিয়োগকারীরা তাঁকে সমন্বয়ক হিসেবে বেছে নিয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি উদ্যোক্তা পরিবারের সন্তান। এই পরিচয় ও অভিজ্ঞতাও আমলে নিয়েছে তারা।

স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন

সংসদ সদস্য হিসেবে একটি বহুজাতিক সংস্থার পক্ষে ওকালতি করা—এতে স্বার্থের সংঘাত হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, ‘না, আমরা রাজনীতি করি জনগণের সেবা করতে; বিনিময়ে কিছু গ্রহণ করি না।’ সংসার চালানোর জন্য এই আইন পেশা। সংসদ সদস্যরা আইন পেশায় থাকেন, এই রীতি আমাদের দেশে আছে।

নতুন সরকারের প্রভাব

এরই মধ্যে নির্বাচন হয়ে গেছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এ প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করেন, নতুন সরকার আসার পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা আছে কি না। জবাবে মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রতিবন্ধকতা অনুভব করিনি। বর্তমান সরকার বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আন্তরিক। দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য এর বিকল্প নেই। প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের উচিত, তাদের সাধ্যমতো বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়তা করা।’

এই আলোচনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরছে। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা এই প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।