জাতীয় নির্বাচনে টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সীমিত করা হয়েছিল
নির্বাচনে টাকার অপব্যবহার রোধে ব্যাংকিং সেবা সীমিত

জাতীয় নির্বাচনে টাকার অপব্যবহার রোধে ব্যাংকিং সেবা সীমিত করা হয়েছিল

জাতীয় নির্বাচনে টাকার অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সীমিত করেছিল। এই সিদ্ধান্তটি চার দিনের জন্য কার্যকর ছিল, যার ফলে গ্রাহকদের মধ্যে কিছু ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। গত রাত বারোটার পর থেকে এসব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

সেবা সীমিত করার সময়সীমা ও প্রভাব

গত রোববার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই সেবা সীমিত করার ঘোষণা দেয় এবং ওই দিন থেকেই তা কার্যকর করা হয়। এই সময়ে, বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা প্রতিবার এক হাজার টাকার বেশি পাঠাতে পারেননি। এই সীমাবদ্ধতা টাকা পাঠাতে গিয়ে অনেক গ্রাহককে অসুবিধার সম্মুখীন করে তোলে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমএফএস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনের অপব্যবহার রোধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে, রোববার রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত, অর্থাৎ পূর্ণ ৯৬ ঘণ্টা, এমএফএসে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা ছিল এক হাজার টাকা এবং লেনদেনের সর্বোচ্চ সংখ্যা দৈনিক ১০টি নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে, মার্চেন্ট পেমেন্ট ও পরিষেবা বিলের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত লেনদেনের বিধান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া, ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় (আইবিএফটির মাধ্যমে লেনদেন) ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা নির্বাচনকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া ও বর্তমান অবস্থা

গত রাত বারোটার পর থেকে এসব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে, যা গ্রাহকদের জন্য স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপটি নির্বাচনকালীন আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল, এবং এখন তা সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।