রাজশাহীতে শ্রমিক দলের ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুর
রাজশাহীতে শ্রমিক দলের ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুর

রাজশাহী জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের দখল নিতে মহানগর শ্রমিক দল ককটেল বিস্ফোরণ, দেশীয় অস্ত্রের মহড়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগে কয়েকজন শ্রমিককে মারধরের ঘটনায় শ্রমিকেরা ওই কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী নগরের শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রাজশাহী জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এ মহড়া দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক। তাঁর সঙ্গে মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সদস্য, বিএনপি, যুবদল ও শ্রমিক দলের নেতা–কর্মীদেরও দেখা যায়। তাঁরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিচ্ছিলেন।

ঘটনার পটভূমি

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মাহাতাব হোসেন চৌধুরী। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তখন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন রফিকুল ইসলাম। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার তাঁর অনুসারীরা কয়েকজন শ্রমিককে মারধর করেন। এ সময় শ্রমিকেরাও রফিকুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করে ইউনিয়ন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এর পর থেকে তাঁরা সংগঠনের নির্বাচন দাবি করছিলেন। এ নিয়ে উত্তেজনা চলছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ দুপুরের পর থেকে রফিকুল ইসলামের বিরোধী শতাধিক শ্রমিক নগরের শিরোইল এলাকায় সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। আর রফিকুলের অনুসারীরা নগরের রেলগেট এলাকায় অবস্থান নেন। তখন দুপক্ষের কাছেই রড, পাইপ ও লাঠি দেখা যায়। শিরোইলে শ্রমিকেরা কিছু ইটও ভেঙে প্রস্তুত থাকেন। সংঘর্ষের আশঙ্কায় সড়কের ওপর থেকে সব বাস সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুপক্ষের মাঝখানে অবস্থান নেয় পুলিশ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রফিকুলের দুই শতাধিক অনুসারী শিরোইলের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। সেখানে পৌঁছেই তাঁরা পাঁচ-ছয়টি ককটেল বিস্ফোরণ করেন। এ সময় পুলিশ শিরোইল-আলুপট্টি সড়কের দিকে ঢুকে যায়। কোনো বাধা না পেয়ে রফিকুলের অনুসারীরা ককটেল বিস্ফোরণ করতে করতে এগিয়ে যান। এ সময় বিরোধী শ্রমিকেরা পিছু হটেন। তাঁরা কোনো প্রতিরোধ করতে পারেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে রফিকুলের অনুসারীরা কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন। এ সময় আশপাশের কয়েকটি দোকান, ভবনের কাচ ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। তাঁদের হাতে ইটপাটকেল ছাড়াও দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র, পাইপ ও লাঠি দেখা যায়। ভাঙচুরের পর তাঁরা শিরোইল-আলুপট্টি সড়কের দিকে একটু এগিয়ে যান। সেখান থেকে ফিরে আবার রেলগেটে চলে যান। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ ঘটনার সময় পুলিশকে কোনো ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি।

রফিকুল ইসলামের বক্তব্য

জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শ্রমিকনেতারা সাধারণ শ্রমিকদের দিয়ে কার্যালয়ে তালা দিয়েছিল। আমরা কার্যালয় উদ্ধার করেছি। এখন কোনো সমস্যা নেই।’

বিরোধী শ্রমিকদের অবস্থান

কথা বলার জন্য সংঘর্ষের পর রফিকুলের বিরোধী শ্রমিকদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে সংঘর্ষের আগে সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থানের সময় শ্রমিকেরা বলছিলেন, তাঁদের সংগঠনে এখন নির্বাচিত নেতৃত্ব নেই। সংগঠন দখল করা হয়েছে। তাঁরা এখন নির্বাচন চান।

পুলিশের বক্তব্য

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, দুই পক্ষই সরে গেছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত। ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা অতিরিক্ত ফোর্স পাঠিয়েছি। কেউই আইনের বাইরে নয়। ওই এলাকায় সিসি ক্যামেরা আছে। ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’