বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ী উদ্যোগ
গভর্নরের সরকারি ব্যয় সাশ্রয়: নিজ বাসা ও একটি গাড়ি ব্যবহার

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ী পদক্ষেপ

সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান একটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি সরকারি বাসভবনে না উঠে নিজ বাসাতেই থাকার পাশাপাশি, তার জন্য বরাদ্দ থাকা দুটি গাড়ির পরিবর্তে আপাতত মাত্র একটি গাড়ি ব্যবহার করছেন। রবিবার (৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জ্বালানি ও সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্য

মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, জ্বালানি ও সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, “গভর্নরের জন্য সরকারের বরাদ্দ করা সরকারি বাসভবনের রক্ষণাবেক্ষণে উল্লেখযোগ্য ব্যয় রয়েছে। সেই খরচ কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত তিনি নিজের বাসভবনেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া গভর্নরের জন্য দুটি গাড়ি বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে একটি গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে।”

এই পদক্ষেপটি শুধুমাত্র গভর্নরের ব্যক্তিগত স্তরেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ব্যাংক কর্মকর্তাদেরও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমিয়ে অফিস পরিবহন বা গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। এটি একটি বৃহত্তর সাশ্রয়ী প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যাংক কর্মঘণ্টার পুনর্নির্ধারণ

এদিকে, সরকারের নির্দেশনার পর বাংলাদেশ ব্যাংক তার কর্মঘণ্টাও পুনর্নির্ধারণ করেছে। শনিবার প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অফিস সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। তবে গ্রাহকরা লেনদেনের জন্য সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত সময় পাবেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই পরিবর্তন সত্ত্বেও, কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকবে। সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা, উপশাখা ও বুথগুলো আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে দিয়েছে।

সাশ্রয়ী উদ্যোগের প্রভাব

গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র আর্থিক সাশ্রয়ই নয়, বরং একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি সরকারি পর্যায়ে জ্বালানি ও সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের বার্তা দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগগুলি নিম্নলিখিত দিকগুলি তুলে ধরে:

  • সরকারি ব্যয় কমানোর জন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকার
  • জ্বালানি সাশ্রয়ের মাধ্যমে পরিবেশগত সুবিধা অর্জন
  • ব্যাংকিং খাতে কর্মঘণ্টার পুনর্বিন্যাস করে সেবার মান বজায় রাখা
  • বন্দর এলাকার ব্যাংক শাখাগুলোতে ২৪/৭ সেবা অব্যাহত রাখা

সর্বোপরি, এই পদক্ষেপগুলি বাংলাদেশের আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।