ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬-এর খসড়া প্রণয়নে সরকারি উদ্যোগ
ব্যাংক খাতের সংকটাপন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সমাধান ও পুনর্গঠনের জন্য একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে সরকার সক্রিয় উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়নের জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে বুধবার (১ এপ্রিল) জারি করা এক অফিস আদেশে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
কমিটির গঠন ও দায়িত্ব
নতুন আইন প্রণয়নের জন্য গঠিত এই কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস। সদস্য হিসেবে রয়েছেন:
- অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ রাশেদুল আমীন
- আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্মসচিব শেখ ফরিদ
- লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের যুগ্মসচিব (ড্রাফটিং) এস. এম. শাফায়েত হোসেন
- আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্মসচিব ফরিদা ইয়াসমিন
- লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের উপসচিব (ড্রাফটিং) মৌসুমী দাস
এছাড়াও, বাংলাদেশ ব্যাংকের তিনজন কর্মকর্তাকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তারা হলেন পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান খান, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন এবং অতিরিক্ত পরিচালক মো. লুৎফুল হায়দার পাশা। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।
কমিটির কার্যক্রম ও সময়সীমা
কমিটির প্রধান কাজ হবে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০১৫’ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কমিটিকে আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে এই খসড়া তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে কমিটি অতিরিক্ত সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা বিশেষজ্ঞদের সভায় আমন্ত্রণ জানাতে পারবে। কমিটির সাচিবিক সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এই উদ্যোগটি ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন আইনটি প্রণয়নের মাধ্যমে সরকার ব্যাংক খাতের সংকটাপন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত সমাধান ও পুনর্গঠনের পথ সুগম করতে চায়।



