নওগাঁ-বগুড়ায় অর্ধশতাব্দীর পুরনো কাঁচা রাস্তা, দুর্ভোগ চরমে
নওগাঁ-বগুড়ায় কাঁচা রাস্তায় দুর্ভোগ, এলজিইডির ব্যর্থতা

নওগাঁর রাণীনগর, সদর উপজেলা ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা—এই তিন উপজেলার মোহনায় অবস্থিত দড়িয়াপুর গ্রামটি চরমভাবে অবহেলিত ও উন্নয়নবঞ্চিত। গ্রামটি আদমদীঘি উপজেলার শেষ সীমানায় হওয়ায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দপ্তরের কর্মকর্তারা এখানে আসেন না বললেই চলে। গ্রামের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি এখনো কাঁচা থাকায় বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষকে হাঁটু কাদা পেরিয়ে চলাচল করতে হয়।

অপরিকল্পিত ইট বসানোয় বাড়তি দুর্ভোগ

সরেজমিনে দেখা যায়, রাণীনগর মাছবাজার থেকে গ্রামে প্রবেশের একমাত্র সড়কের কিছু অংশ আগে থেকেই ইট বসানো ছিল। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বরাদ্দে রাস্তার আরেকটি অংশে ইট বসানো হলেও মাঝখানের অংশ ফাঁকা রাখা হয়েছে। ফলে মোফাজ্জলের বাঁশতলা থেকে মোস্তাকের দোকানসংলগ্ন ইটের রাস্তা পর্যন্ত প্রায় ৪০০ ফুট কাঁচা অংশ আগের মতোই রয়ে গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি নিয়ে বাস্তবায়ন করেছেন। তার নির্দেশেই মাঝখানের অংশ বাদ দিয়ে নতুন করে ইট বসানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত। স্বাভাবিকভাবে রাস্তায় ইটের কাজ যেখান থেকে শেষ হয়েছে নতুন ইট বিছানোর কাজ সেখান থেকেই শুরু হওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যানের নির্দেশনা মোতাবেক মাঝখানে ফাঁকা রেখেই গ্রামীণ মেঠোপথে ইট বিছানোর কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। এতে করে সুবিধার চেয়ে নতুন করে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রামবাসীর অভিযোগ

গ্রামবাসীর অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে মাঝখানের কাঁচা অংশ কাদায় পরিণত হওয়ায় ইটের রাস্তার কোনো বাস্তব সুফল মিলবে না। বরং পথচারী, শিক্ষার্থী ও রোগী পরিবহনে আগের মতোই দুর্ভোগ পোহাতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দা আলম হোসেন, রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, “রাস্তার মাঝখান বাদ দিয়ে দুই পাশে ইট বসানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে।” তারা অভিযোগ করেন, কাজটি জনস্বার্থের পরিবর্তে বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবহৃত ইটের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস, জাফের ও জামেদ আলী জানান, “আধুনিক যুগেও দড়িয়াপুর গ্রামের মানুষ কাঁচা রাস্তার ওপর নির্ভরশীল। বর্ষাকালে হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে হয়। জরুরি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া এবং যানবাহন চলাচলেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।” উপজেলার শেষ প্রান্তে হওয়ায় গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়নবঞ্চিত বলে দাবি তাদের।

এলজিইডির ব্যাখ্যা ও প্রতিশ্রুতি

এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা প্রকৌশলী রিপন কুমার সাহা বলেন, “দড়িয়াপুর গ্রামের ইটের রাস্তার শেষ থেকে প্রায় ৯০০ ফুট কাঁচা রাস্তা রয়েছে। চলতি অর্থবছরে এর মধ্যে প্রায় ৪০০ ফুটে ইট বসানোর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জরিপের সময় ভুলবশত প্রকল্পের অবস্থান ভিন্নভাবে উল্লেখ হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে নতুন কাজ আগের ইটের রাস্তার শেষ অংশ থেকেই শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “কেন মাঝখানের অংশ বাদ দিয়ে কাজ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে পুরো কাঁচা অংশেই ইট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”