টেনিস কোর্ট থেকে রাজনীতির ময়দানে: লিয়েন্ডার পেজের বিজেপিতে যোগদান
প্রাক্তন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ তার খেলোয়াড় জীবনের সফল অধ্যায় পেছনে ফেলে এবার রাজনীতির নতুন ময়দানে পা রাখলেন। মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লিতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দলে যোগ দেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নেন, যা তার নতুন রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা নির্দেশ করে।
যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা
দিল্লির বিজেপি সদর দফতরে আয়োজিত এই যোগদান পর্বে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। রাজ্য নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার লিয়েন্ডারকে স্বাগত জানান। সুকান্ত মজুমদার তার বক্তব্যে বলেন, "লিয়েন্ডার পশ্চিমবঙ্গের গর্ব। তার কৃতিত্ব শুধু খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রেও তার বড় ভূমিকা রয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বিজেপির জন্য এই যোগদান একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
কীভাবে চূড়ান্ত হলো এই সিদ্ধান্ত?
এই যোগদানের গল্প হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। প্রায় এক সপ্তাহ আগে কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন লিয়েন্ডার। সূত্রমতে, সেই বৈঠকেই তার বিজেপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। ওই বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও উপস্থিত ছিলেন। গত আট মাস ধরেই বিজেপির সঙ্গে তার যোগাযোগ চলছিল, এবং নিউ টাউনের বৈঠকের পরই স্পষ্ট হয়ে যায় যে তিনি খুব শীঘ্রই রাজনৈতিক শিবির বদলাতে চলেছেন।
লিয়েন্ডারের বক্তব্য ও পূর্বের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা
আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়ে লিয়েন্ডার বলেন, "আজ আমার জীবনের একটি বড় দিন। দীর্ঘ চার দশক দেশের হয়ে খেলার পর এবার আমি দেশসেবার অন্য পথে হাঁটতে চাই।" তিনি আরও যোগ করেন যে বিজেপি তাকে এই সুযোগ করে দিয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি টেনিস পরিকাঠামোর উন্নতির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন এবং ক্রীড়া ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, লিয়েন্ডার রাজনীতিতে একেবারে নতুন নন। ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। পরের বছর গোয়ার নির্বাচনের আগে সেই যোগদান বেশ আলোচনায় আসলেও, পরে সক্রিয় রাজনীতিতে তাকে তেমনভাবে দেখা যায়নি।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
লিয়েন্ডারের সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। সুকান্ত মজুমদারের দাবি, আসন্ন নির্বাচনে লিয়েন্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন এবং তার জনপ্রিয়তা ভোটের ময়দানেও প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, শাসক শিবির এই যোগদান নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। সমাজমাধ্যমে তারা মন্তব্য করেছে যে বিজেপি অবশেষে তাদের নতুন মুখ খুঁজে পেয়েছে এবং বাইরে থেকে নেতাদের এনে রাজ্যে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, টেনিস কোর্টের এই তারকা এখন রাজনীতির কোর্টে নিজের নতুন ইনিংস শুরু করেছেন। তার এই রাজনৈতিক যাত্রা কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে। বিজেপির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে যে লিয়েন্ডারের যোগদান দলকে শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



