স্বাধীনতা দিবসে তেজগাঁওয়ে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ শুরু, ১৮ বছর পর পুনরায় জাতীয় কুচকাওয়াজ
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে অবস্থিত জাতীয় কুচকাওয়াজ চত্বরে একটি বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ শুরু হয়েছে। এই কুচকাওয়াজে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন সালাম গ্রহণ করছেন, যা স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজের একটি ঐতিহাসিক অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানও কুচকাওয়াজ মাঠে উপস্থিত আছেন, যেখানে তিন বাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ও বিদেশি কূটনীতিকরা, যার মধ্যে রাষ্ট্রদূতগণও রয়েছেন, অংশগ্রহণ করছেন।
কুচকাওয়াজের আয়োজন ও তত্ত্বাবধান
এই কুচকাওয়াজটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং নবম পদাতিক ডিভিশন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এটি জাতীয় কুচকাওয়াজ চত্বরে আয়োজিত হচ্ছে, যা স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ২৬ মার্চের উদযাপনে এই কুচকাওয়াজ প্রদর্শনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ১৮ বছর পর একটি বিশেষ ঘটনা।
বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজের ইতিহাস
অন্যদিকে, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ প্রায় প্রতি বছরই আয়োজিত হয়, তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে এটি ব্যতিক্রম ছিল। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজের পুনরায় আয়োজন একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
কমান্ডিং অফিসার ও সম্প্রচার
নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল কমান্ডিং অফিসার মেজর জেনারেল এসএম আসাদুল হক এই বছরের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজের কমান্ড করছেন। কুচকাওয়াজটি সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম এটি সরাসরি সম্প্রচার করছে, যা দেশব্যাপী দর্শকদের কাছে এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত পৌঁছে দিচ্ছে।
এই আয়োজনটি স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে, যেখানে সশস্ত্র বাহিনী ও সরকারি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ দেশের অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার বার্তা বহন করছে।



