আজ রোববার রাতে দেশের আকাশে একটি বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন আকাশপ্রেমীরা। এটি ‘ব্লু মুন’ নামে পরিচিত, যা একটি বিশেষ ক্যালেন্ডারিক তাৎপর্য বহন করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই ঘটনা ঘটে যখন একই ক্যালেন্ডার মাসে দুটি পূর্ণিমা দেখা যায়। মে মাসের প্রথম পূর্ণিমা ছিল ১ মে, তাই ৩১ মে-র দ্বিতীয় পূর্ণিমাটি ‘ব্লু মুন’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হচ্ছে।
ব্লু মুন কী?
নাম সত্ত্বেও, ব্লু মুনের রঙের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে চাঁদ তার স্বাভাবিক রূপালী-সাদা বা সোনালি রঙে দেখা যাবে, যা দিগন্তের কাছে বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার ওপর নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেছেন যে এই ঘটনা চন্দ্রচক্র এবং গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মধ্যে অমিলের ফলে ঘটে। একটি পূর্ণ চন্দ্রচক্র প্রায় ২৯.৫ দিন স্থায়ী হয়, যার অর্থ অধিকাংশ মাসে কেবল একটি পূর্ণিমা দেখা যায়। তবে চন্দ্রবছর সৌরবছরের সাথে পুরোপুরি মেলে না বলে মাঝে মাঝে একটি অতিরিক্ত পূর্ণিমা দেখা দেয়, ফলে বছরে স্বাভাবিক ১২টির পরিবর্তে ১৩টি পূর্ণিমা হয়।
কতবার দেখা যায়?
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের ঘটনা প্রায় প্রতি দুই থেকে তিন বছরে একবার ঘটে। ব্লু মুন হওয়ার পাশাপাশি, এই ঘটনাটি আকাশে তার অবস্থানের জন্যও উল্লেখযোগ্য। চাঁদ পূর্ব দিগন্তে উদিত হবে এবং আকাশে তুলনামূলকভাবে নিচু অবস্থানে দেখা যাবে। সর্বোচ্চ দৃশ্যমানতার সময় এটি কন্যা রাশির নক্ষত্রপুঞ্জের কাছে অবস্থান করবে।
দেখতে কেমন হবে?
এর অবস্থানের কারণে, দিগন্তের কাছে দেখা গেলে চাঁদ কিছুটা বড় এবং বেশি কমলা বা সোনালি দেখাতে পারে, যা বায়ুমণ্ডলীয় বিচ্ছুরণের কারণে ঘটে। জ্যোতির্বিজ্ঞান সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত মাসে একবার পূর্ণিমা দেখা গেলেও চন্দ্রচক্র এবং ক্যালেন্ডার মাসের সময়ের পার্থক্যের কারণেই এই বিরল দ্বৈত পূর্ণিমা ঘটনা তৈরি হয়।
কীভাবে দেখবেন?
ব্লু মুন পরিষ্কার আকাশে খালি চোখেই দৃশ্যমান হবে এবং কোনো বিশেষ সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের আগে আর কোনো ব্লু মুন প্রত্যাশিত নয়, যা আজ রাতের এই মহাজাগতিক ঘটনাকে বিশ্বব্যাপী জ্যোতির্বিজ্ঞান উত্সাহীদের জন্য একটি অপেক্ষাকৃত বিরল দর্শনীয় সুযোগ করে দিয়েছে।



