হলান্ড বনাম কেইন: বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই সেরা স্ট্রাইকারের লড়াই
হলান্ড বনাম কেইন: দুই সেরা স্ট্রাইকারের লড়াই

আজ রাতে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার ম্যাচটি বিশ্ব ফুটবলের দুই সেরা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন ও আর্লিং হলান্ডকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা দুই স্ট্রাইকারের লড়াই দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে হলান্ড ৭ গোল করেছেন, যেখানে কেইন ৬ গোল করেছেন। তবে হলান্ড একটি ম্যাচ কম খেলেছেন, কারণ নরওয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করে ফেলায় ফ্রান্সের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রতি ৯০ মিনিটে কেইনের গোল গড় ১.২, হলান্ডের ১.৮।

দুজনের মধ্যে আরও একটি পার্থক্য রয়েছে: কেইনের দুটি গোল পেনাল্টি থেকে এলেও হলান্ডের কোনো গোলই পেনাল্টি থেকে নয়। হলান্ডের ৭ গোলের মধ্যে ব্রাজিলের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলটি ছিল বক্সের বাইরে থেকে, অন্যদিকে কেইনের বক্সের বাইরে থেকে কোনো গোল নেই।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্লাব ফুটবলে গোলের রেকর্ড

ক্লাব ফুটবলেও দুজন গত কয়েক মৌসুম ধরে গোলের পর গোল করে চলেছেন। ৩২ বছর বয়সী কেইন এই মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মোট ৭৩ গোল করেছেন। এক মৌসুমে এর চেয়ে বেশি গোলের কীর্তি আছে শুধু ২০১১-১২ মৌসুমে লিওনেল মেসির (৮২)। অন্যদিকে হলান্ড একটু পিছিয়ে, ম্যান সিটি ও নরওয়ের হয়ে এই মৌসুমে তাঁর মোট গোলসংখ্যা ৫৮।

হ্যারি কেইন বর্তমানে দারুণ ছন্দে রয়েছেন। ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি, এবং ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড তাঁর দখলে। তিন বিশ্বকাপ মিলিয়ে তাঁর গোল এখন ১৪টি। অন্যদিকে হলান্ডের এটাই প্রথম বিশ্বকাপ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ণাঙ্গ ফুটবলার হিসেবে কেইন

দুজনের তুলনায় কেউ বলতে পারেন, কেইন হয়তো হলান্ডের চেয়ে আরেকটু বেশি পূর্ণাঙ্গ ফুটবলার। দুজনই নাম্বার নাইন হলেও হলান্ড যেখানে বক্সের আশপাশে গোলের জন্য ওত পেতে থাকেন পাকা শিকারির মতো, সেখানে কেইনকে অনেক সময় নিজেদের ডি বক্সে এসেও রক্ষণ করতে দেখা যায়। এই বিশ্বকাপে কেইন একটি অ্যাসিস্ট করেছেন, হলান্ডের একটিও না। আবার হলান্ড বিশ্বকাপে সতীর্থদের জন্য ৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন—কেইনের চেয়ে যা দুটি বেশি। গত তিন মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে কেইনের অ্যাসিস্ট ২৬টি, ২৪টি অ্যাসিস্ট নিয়ে হলান্ডও খুব বেশি পিছিয়ে নেই।

জাতীয় দলের ফর্ম

দেশের হয়ে হলান্ডের ফর্ম প্রায় অবিশ্বাস্য: ৫৪ ম্যাচে ৬২ গোল। যার মানে প্রতি ৭১ মিনিটে নরওয়ের হয়ে একটি গোল করেছেন, যেখানে তিনি কেইন-মেসি-এমবাপ্পেদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। অন্যদিকে কেইন ইংল্যান্ডের হয়ে ১০৩ ম্যাচে ৬৯ গোল করেছেন।

মুখোমুখি লড়াই

জাতীয় দলে দুজন এখনো মুখোমুখি না হলেও ক্লাব ফুটবলে সেই অভিজ্ঞতা হয়েছে। টটেনহামে থাকার সময় দুবার কেইন হলান্ডের সিটির মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে প্রথম দেখায় ইতিহাদে টটেনহামের বিপক্ষে গোল পেয়েছিলেন হলান্ড। কেইন অবশ্য পরের দেখায় টটেনহামের হয়ে জয়সূচক গোল করে শেষ হাসিটা হেসেছিলেন। আজ রাতে সেই হাসি কার মুখে থাকবে, সেটাই দেখার অপেক্ষা।