বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের জিলেট স্টেডিয়ামে ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ৭১ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে ফরাসি ও মরক্কোর সমর্থকরা তাদের দলকে সমর্থন জানাতে উপস্থিত থাকবেন। ফ্রান্স বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামছে, অন্যদিকে মরক্কো ইতিহাসের প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছানোর লক্ষ্যে লড়ছে।
দুই দলের পথচলা
চলতি বিশ্বকাপে ফ্রান্স গ্রুপ পর্বে জাপানকে ৩-০, প্যারাগুয়েকে ২-০ এবং কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়ে শতভাগ সাফল্য নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। নকআউট পর্বে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আসে। টুর্নামেন্টজুড়ে ফ্রান্স চার ম্যাচে করেছে ৮ গোল, হজম করেছে মাত্র ১টি। অন্যদিকে মরক্কো গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ কোরিয়াকে ২-০, পেরুকে ১-০ গোলে হারানোর পাশাপাশি ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোলোয় ওঠে। নকআউট পর্বে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। চার ম্যাচে মরক্কো করেছে ৭ গোল, হজম করেছে মাত্র ১টি।
পূর্ববর্তী মুখোমুখি
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফ্রান্স ও মরক্কো এখন পর্যন্ত ১৩ বার মুখোমুখি হয়েছে। ফ্রান্স জিতেছে ৭টি ম্যাচ, মরক্কো জিতেছে ২টি, আর ৪টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে নকআউট পর্বে অতীতের পরিসংখ্যান খুব কমই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। একটি মুহূর্ত, একটি ভুল, একটি জাদুকরী স্পর্শ বদলে দিতে পারে সব হিসাব।
কোচ ও খেলোয়াড়দের বক্তব্য
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশম ম্যাচের আগে বলেছেন, ‘মরক্কোকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা নিজেদের যোগ্যতায় এই পর্যায়ে এসেছে। সেমিফাইনালে যেতে হলে আমাদের সেরা ফুটবল খেলতেই হবে।’ মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেছেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা কোনো ভয় নিয়ে মাঠে নামে না। শৃঙ্খলা, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব।’ কিলিয়ান এমবাপ্পে বলেন, ‘বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচই একটি ফাইনাল। এখানে ভুলের কোনো সুযোগ নেই।’ আশরাফ হাকিমি বলেন, ‘আমরা শুধু মরক্কোর জন্য খেলছি না, পুরো আফ্রিকার জন্য লড়ছি। ইতিহাস লেখার সুযোগ প্রতিদিন আসে না।’
কৌশলগত বিশ্লেষণ
ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার গতি, গোল করার দক্ষতা এবং বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা ফ্রান্সকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। তার সঙ্গে আক্রমণে থাকবেন উসমান দেম্বেলে। মাঝমাঠে অরেলিয়ান শুয়ামেনি খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করবেন, আর রক্ষণে নেতৃত্ব দেবেন উইলিয়াম সালিবা। মরক্কোর ডান প্রান্তে আশরাফ হাকিমির গতি ও আক্রমণে উঠে আসার ক্ষমতা ফ্রান্সকে সতর্ক থাকতে বাধ্য করবে। মাঝমাঠে সুফিয়ান আমরাবাত প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দিয়ে নিজের দলকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ করেন। সামনে ইউসুফ এন-নেসিরি একটি সুযোগ পেলেই তা গোলে পরিণত করার সামর্থ্য রাখেন। ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিগত লড়াই হতে পারে এমবাপ্পে ও হাকিমির মধ্যে। একসময় একই ক্লাবের সতীর্থ ছিলেন তারা। এই দ্বৈরথই হয়তো নির্ধারণ করবে ম্যাচের ভাগ্য।
পরবর্তী খেলাসমূহ
শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২৬ [কোয়ার্টার ফাইনাল] রাত ২টা ফ্রান্স – মরক্কো জিলেট স্টেডিয়াম, ম্যাসাচুসেটস, যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ১১ জুলাই ২০২৬ [কোয়ার্টার ফাইনাল] রাত ১টা স্পেন – বেলজিয়াম সোফি স্টেডিয়াম, লস অ্যাঞ্জেলেস, যুক্তরাষ্ট্র।



