ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্পের ১১ দিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারে খালি হাতে কাজ করছেন অসংখ্য মানুষ। উদ্ধারকারী ভারী যন্ত্রপাতির অভাব, সরকারি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ এবং পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধারের বিভীষিকা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সরকারি সহায়তার অভাব
ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ভেনেজুয়েলা এখন অবকাঠামো ও আবাসন পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করছে। তবে উদ্ধারকাজে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারে গিয়ে নতুন নতুন বিভীষিকার মুখোমুখি হচ্ছেন অনেকে। কেউ পচে যাওয়া মরদেহ শনাক্ত করতে পারছেন না, আবার কেউ দিনের পর দিন খুঁজেও কোনও সন্ধান পাচ্ছেন না।
নোয়েল মার্কেজের বেদনা
২৬ বছর বয়সী নোয়েল মার্কেজ জানান, ভবন ধসে তার পরিবারের সদস্যরা আটকা পড়েন। কংক্রিটের নিচে আটকে থাকা ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে পারলেও ক্রেন না আসায় তাকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি। পরে নিজের হাতে ভাই ও মায়ের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করেন তিনি। তবে অন্তঃসত্ত্বা বোন, দাদি ও পরিবারের আরও কয়েকজনের মরদেহ ধ্বংসস্তূপেই রয়ে গেছে। লা গুয়াইরা বন্দরের অস্থায়ী মর্গে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, 'এটা অন্যায়, অমানবিক। আমরা ভাইকে বের করতে পারিনি, কারণ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনও সাড়া পাইনি। ১১ দিন পরও আমরা একটি ক্রেনের অপেক্ষায় আছি।'
উদ্ধারকাজের চ্যালেঞ্জ
লা গুয়াইরার দমকলকর্মী উইলিয়াম গোমেজ বলেন, সময় যত গড়াচ্ছে, মরদেহ উদ্ধারের কাজ তত কঠিন হয়ে উঠছে। মরদেহগুলো এমনভাবে পচে গেছে যে সেগুলো তুলতে গেলেই অনেক সময় ভেঙে পড়ছে। রবিবার কর্তৃপক্ষ জানায়, ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৩৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৬ হাজার ৭৪০ জন। তবে এখনও কত মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন, সে বিষয়ে কোনও সরকারি তথ্য নেই। বিরোধীদের একটি ওয়েবসাইটে ৩০ হাজারের বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য জমা পড়েছে।
স্থানীয় উদ্যোগ
সপ্তাহান্তে লা গুয়াইরায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে সরকারি উদ্ধারকর্মী বা নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি খুব কম ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বজনরা খালি হাতে কিংবা কোদাল ও গাঁইতির মতো সাধারণ সরঞ্জাম দিয়ে অনুসন্ধান চালান। কোথাও কোথাও দমকলকর্মী ও এখনও দেশে অবস্থান করা মেক্সিকান উদ্ধারকর্মীরা তাদের সহায়তা করেন।
আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল প্রত্যাহার
এদিকে ইতালি, আর্জেন্টিনা ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল ফিরে গেলেও সরকার জানিয়েছে, জীবিতদের অনুসন্ধান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়নি। একই সঙ্গে পুনর্গঠন পরিকল্পনার কাজও শুরু হয়েছে।



