বিসিবি নির্বাচনে তদন্ত কমিটি গঠনে উদ্বেগ প্রকাশ, প্রতিমন্ত্রী বললেন আইসিসির সঙ্গে আলোচনা জরুরি
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে অনিয়ম খতিয়ে দেখতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিসিবি। সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সরকারের এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) চোখে ‘বাহ্যিক হস্তক্ষেপ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা আইসিসিতে বাংলাদেশের সদস্য পদ বা ক্রিকেটের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে তাদের শঙ্কা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া: আইসিসির সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত
বিসিবির এমন উদ্বেগের জবাবে আজ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, তদন্ত কমিটির কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইসিসির সঙ্গে কথা বলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান শেষে আমিনুল হক বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের জন্য আমি অপেক্ষায় আছি। প্রতিবেদন এলে সেটি যাচাই-বাছাই করে এবং আইসিসির সাথে কথা বলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’
কেন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হলো, তার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলো থেকে অভিযোগ এসেছে, বিভিন্ন জেলা পর্যায় থেকেও অভিযোগ এসেছে, সেই অভিযোগগুলোকে আমলে নিয়েই আমরা তদন্ত কমিটি করেছি।’
বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়েও তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আরও জানিয়েছেন, ভারতে নিরাপত্তা সংকটের কারণে এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েও তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ ক্রিকেটে কেন আমরা খেলতে যেতে পারিনি বা আমাদের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের কোথায় অভাব (ঘাটতি) ছিল, এই বিষয়গুলো অবশ্যই খতিয়ে দেখা উচিত। এটা নিয়ে হয়তো ঈদের পরে আমি একটি তদন্ত কমিটি করে দেব।’
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে, যখন ক্রীড়া উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ নজরুল। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর ভারতের বদলে বাংলাদেশ ম্যাচগুলো খেলতে চেয়েছিল শ্রীলঙ্কার ভেন্যুতে, কিন্তু আইসিসি তাতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আর বিশ্বকাপেই খেলা হয়নি বাংলাদেশের।
বিসিবি নির্বাচনে তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে চলমান এই বিতর্ক ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, সরকার আইসিসির সঙ্গে সমন্বয় রেখেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চায়, যা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
