নতুন সরকারের কাছে আসিফ আকবরের ভিন্নধর্মী দাবি
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আসিফ আকবর সর্বদাই নিজস্ব চিন্তাধারা ও পথে চলতে পছন্দ করেন। গতানুগতিকতা তার ধাতে নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের কল্যাণে ঘুনে ধরা নিয়ম ভেঙে নতুন পথে এগোনো সম্ভব। নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে ক্রীড়াঙ্গনে জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই তিনি উত্থাপন করেছেন বেশ কিছু যুগান্তকারী প্রস্তাব।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হোক টেকনোক্র্যাট
নতুন সরকারে কে হবেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী—এ প্রশ্নে আসিফ আকবরের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে তা সর্বোত্তম নয়। তার মতে, নির্বাচিত প্রতিনিধি নিজ এলাকার উন্নয়ন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি ব্যস্ত থাকবেন। ফলে ক্রীড়াখাতে পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে না।
আসিফের ভাষায়, "পলিটিশিয়ান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হলে সে তার এলাকায় যাবে, রাজনীতি করবে আর ফাঁকে ফাঁকে খেলাধুলার কাজ করবে।" বরং তার প্রস্তাব হলো, টেকনোক্র্যাট ব্যক্তিত্ব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলে তা অধিক ফলপ্রসূ হবে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, "টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ফুল টাইম নেতা-কর্মীদেরকে না দিয়ে খেলাধুলাকে দেবে এবং এতে আমাদের খেলাধুলার জন্য সুবিধা হবে।" আসিফের যুক্তি, "কখনো হয়নি বলে এখন হতে পারবে না সেটি কেন। দেশের জন্য কোনটি ভালো সেটি করতে হবে। সংবিধান মেনেই তো করা যায়।"
বিসিবি ও বাফুফের সভাপতিদের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি আসিফ আকবর দুটি প্রধান ক্রীড়া ফেডারেশনের ব্যাপারেও গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া উচিত।
তার মতে, বিসিবি ও বাফুফের সভাপতিপদ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এ দুটি পদে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা প্রদান করলে নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে:
- উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
- সরকারের জন্য এটি ইতিবাচক হবে এবং ফেডারেশন দুটির জন্যও মঙ্গলকর হবে।
আসিফ যুক্তি দেখান, "সিটি করপোরেশনের মেয়র পদটি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়। তাহলে বাফুফে এবং বিসিবির সভাপতি পদে এই মর্যাদা দেওয়া যাবে না কেন।" তিনি আইনগত সম্ভাবনার দিকটি উল্লেখ করে বলেন, "আইন আছে কিনা, সেটি আইনের মানুষ রয়েছেন তারা দেখবেন। সংসদ আছে। সেখানে আলোচনা করে আইনের বিষয় খতিয়ে দেখে আইনে পরিণত করা যায়।"
সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়
আসিফ আকবর তার প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করে শেষ করেছেন একটি সহজ কিন্তু দৃঢ় মন্তব্যে। তিনি বলেন, "আমি চেয়েছি। এখন বাকিটা তাদের (সরকার) সিদ্ধান্ত।" তার এই অভিনব চিন্তাভাবনা ক্রীড়া প্রশাসনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
নতুন সরকার গঠনের পর ক্রীড়াখাতে কী ধরনের সংস্কার আসে, সেটি এখন সময়ের ব্যাপার। তবে আসিফ আকবরের মতো ব্যক্তিত্বের মৌলিক প্রস্তাবগুলো নিঃসন্দেহে আলোচনার জন্ম দেবে এবং ক্রীড়া উন্নয়নে গতিশীলতা আনতে পারে।
