শুটিং ফেডারেশনে নিষেধাজ্ঞার তুঘলকি কাণ্ড: শীর্ষ নারী শুটাররা ক্ষুদ্ধ
শুটিং ফেডারেশনে চলছে এক তুঘলকি কাণ্ড। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে একের পর এক নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে এসেছে দেশের শীর্ষ নারী শুটারদের ওপর। এ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে ক্রীড়াঙ্গনে। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দেশসেরা নারী শুটার কামরুন নাহার কলিকে নিষিদ্ধ করেছে শুটিং ফেডারেশন। এছাড়া, স্বর্ণজয়ী শুটার সাবরিনা সুলতানা ও শারমিন আক্তার রত্নাকেও শুটিং অঙ্গন থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। ফেডারেশনের কাছ থেকে সাময়িক বহিষ্কারের চিঠি পেয়েছেন আরও দুই শুটার, যা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
কামরুন নাহার কলির বক্তব্য: অন্যায়ের প্রতিবাদেই নিষেধাজ্ঞা
কামরুন নাহার কলি বাংলা ট্রিবিউনকে নিষিদ্ধের চিঠি পেয়ে বলেছেন, ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি বলেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা ভালো পরিবেশে শুটিং করতে চেয়েছি। কর্মকর্তা সাজ্জাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছি। এখন তার হয়ে বর্তমান কমিটি আমাদের বিরুদ্ধে শাস্তি দিয়েছে। এমন শাস্তি কোনওমতে কাম্য নয়।’ তার মতে, ফেডারেশন একটি স্বচ্ছ ও ন্যায্য পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে, এবং প্রতিবাদকারীদের দমন করার চেষ্টা চলছে।
সাবরিনা সুলতানার প্রতিক্রিয়া: অবৈধ কমিটির সিদ্ধান্ত
ক্ষুব্ধ সাবরিনা সুলতানা বলেছেন, ‘এই অ্যাডহক কমিটিই অবৈধ। তারা টাকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সার্চ কমিটি তাদের বাছাই করেনি। যারা নিজেরাই অবৈধ, তাদের সিদ্ধান্তের কোনও মূল্য আমার কাছে নেই। আজ (গতকাল) কুষ্টিয়ায় এসে তাদের চিঠি পেয়েছি। এই চিঠি আমার কাছে হাস্যকর।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফেডারেশনের এই পদক্ষেপ শুটিং খেলার উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করছে এবং ক্রীড়াবিদদের অধিকার লঙ্ঘন করছে।
শারমিন আক্তার রত্নার অভিযোগ: ফেডারেশন সাজ্জাদের পক্ষ নিয়েছে
শারমিন আক্তার রত্নাও বলেছেন, ‘এসব সিদ্ধান্ত একদম হাস্যকর। তারা চান না শুটিং এগিয়ে যাক। আমাদের আন্দোলন তো সাজ্জাদের বিরুদ্ধে। ফেডারেশনের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু আমাদের শাস্তি দিয়ে ফেডারেশন স্পষ্টতই সাজ্জাদের পক্ষ নিয়েছে। আমরা আলেয়া ফেরদৌসের অপসারণ চাই। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কেন আমাদের সঙ্গে কথা বলেননি? উল্টো তিনি আমাদের অবাঞ্ছিত করলেন।’ তার মতে, ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্ত শুটিং খেলার ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এটি একটি রাজনৈতিক দমননীতির অংশ।
ফেডারেশনের অবস্থান ও ভবিষ্যত প্রভাব
শুটিং ফেডারেশনের এই নিষেধাজ্ঞা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি বড় বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট শুটিং খেলার উন্নয়ন ও শৃঙ্খলাকে প্রভাবিত করতে পারে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত শুটাররা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই ঘটনা শুটিং ফেডারেশনের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও স্বচ্ছতার অভাবকেও তুলে ধরছে, যা ভবিষ্যতে সংশোধন করা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
