বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। গত ডিসেম্বর মাস থেকে রাজধানী ঢাকাতেও দূষণের মাত্রা প্রায়শই বেশি ছিল। তবে গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীতে টানা বৃষ্টি হওয়ায় বাতাসে ভেসে থাকা ধূলিকণার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে শহরটির দূষণের মাত্রায় ওঠানামা দেখা গেলেও বর্তমানে তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
ঢাকার বায়ুমান স্কোর ৮০
সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ২০তম স্থানে রয়েছে ঢাকা। শহরটির বায়ুমান স্কোর ৮০, যা ‘মাঝারি’ মানের হিসেবে বিবেচিত। এই স্কোর রাজধানীবাসীর জন্য স্বস্তিদায়ক, কারণ তারা আজ মন ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারবেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই স্কোর কিছুটা বাড়তে বা কমতে পারে।
গত রোববার একই সময়ে ঢাকার বায়ুমান স্কোর ছিল ১০৭, যা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য হয়। এর আগের দিন স্কোর ছিল ৮২। অর্থাৎ, বৃষ্টির কারণে দূষণের মাত্রা কমেছে এবং বর্তমানে তা মোটামুটি ভালো অবস্থায় রয়েছে।
বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকা
আইকিউএয়ারের তালিকার শীর্ষে রয়েছে কঙ্গোর কিনসাসা। শহরটির বায়ুমান স্কোর ২০৩, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার স্কোর ১৭০ এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতের দিল্লির স্কোর ১৫২। এই দুটি শহরের বায়ুমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।
ভারতের কলকাতা ১১৫ স্কোর নিয়ে নবম স্থানে রয়েছে, যা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’। অন্যদিকে, ভারতের মুম্বাই ৫৬ স্কোর নিয়ে ৫৭তম স্থানে রয়েছে, যা ‘মাঝারি’ মানের। পাকিস্তানের লাহোর ১৪৫ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে (সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর) এবং করাচি ৮২ স্কোর নিয়ে ২১তম স্থানে রয়েছে, যা অপেক্ষাকৃত ভালো।
একিউআই মান কী?
বায়ুমান সূচক (একিউআই) অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০ স্কোর থাকলে বায়ুর গুণমান ‘মাঝারি’ বলা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, যার অর্থ সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
ঢাকার বর্তমান স্কোর ৮০ হওয়ায় বায়ুর গুণমান ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ না নিলে আবারও দূষণের মাত্রা বাড়তে পারে।



